যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি তেলসমৃদ্ধ আরব দেশে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
এই হামলার অংশ হিসেবে ইরান তার আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে নিয়মিত বিরতিতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুঁড়ছে। এসব হামলায় ওই সব দেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে ভ্রমণ, পর্যটন ও আর্থিক কেন্দ্রের পাশাপাশি তেল ও গ্যাস শিল্প স্থাপনাগুলোও। এসব স্থাপনায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন।
বাংলাদেশের সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ ছয়টি দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় ইতোমধ্যে এক বা একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইরান।
এদিকে যুদ্ধ শেষ বা স্থগিত হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবেন না তিনি।
এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এখন পর্যন্ত দুজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

