যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে শনিবার লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে হাজারো মানুষ যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বানও জানান তারা।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজের তথ্য অনুযায়ী এই বিক্ষোভে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
স্থানীয় সময় দুপুরে ভিক্টোরিয়া টাওয়ার গার্ডেনসের কাছে মিলব্যাংক এলাকা থেকে সমাবেশ শুরু হয়। ক্যাম্পেইন ফর নিউক্লিয়ার ডিসআর্মামেন্ট (সিএনডি), স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন এবং প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনসহ কয়েকটি সংগঠনের জোট এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
বিক্ষোভকারীরা ‘স্টপ ট্রাম্পস ওয়ারস’ এবং ‘নো ওয়ার অন ইরান’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের দিকে মিছিল করেন। অনেককে ইরান ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায়।
কিছু বিক্ষোভকারী ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির প্রতিকৃতিও বহন করেন।
আয়োজকেরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে “অবৈধ” বলে উল্লেখ করেন এবং সতর্ক করেন যে সংঘাত আরও তীব্র হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশনের সহসভাপতি ক্রিস নাইনেরহ্যাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি “দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক বৈশ্বিক মুহূর্তগুলোর একটি।”
বিক্ষোভস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করছেন। তারা এই অঞ্চলে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছেন এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। দুঃখজনক হলো, আমাদের সরকার ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে এই পরিস্থিতি এগিয়ে নিতে ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, ব্রিটেনের অনেক মানুষ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেন এবং সংঘাত বন্ধ করে শান্তির পক্ষে শক্তিশালী ও সরব জনআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৫০ জনের বেশি স্কুলছাত্রী এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরানও ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি ইসরায়েলের একাধিক শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু

