ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শনিবার জানিয়েছে, তারা তেহরানের ইমাম হোসেইন বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে তেহরান ও ইরানের মধ্যাঞ্চলে চালানো হামলায় ৮০টির বেশি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইমাম হোসেইন বিশ্ববিদ্যালয়। ইসরায়েলের দাবি, সংঘাত চলাকালে এটি আইআরজিসি বাহিনীর সমাবেশস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং সেখানে বহু সামরিক সরঞ্জাম মজুত ছিল। সে কারণে এটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে, হামলায় ইরানের সামরিক বাঙ্কার, ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ডিপোকেও আঘাত করা হয়েছে, যা শতাধিক কর্মীসহ একটি কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে তাদের দাবি।
এ ছাড়া পশ্চিম ও মধ্য ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, ১৫০ জনের বেশি স্কুলছাত্রী এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাসহ এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরানও পাল্টা ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি ইসরায়েলের একাধিক শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সূত্র: আনাদোলু

