মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাত্রা বাড়তে থাকলেও ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারায়নি বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান মাত্রার যুদ্ধ ইরান অন্তত আরও ছয় মাস চালিয়ে যেতে সক্ষম।
এই বক্তব্য এমন সময় এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—অর্থনৈতিক চাপে থাকা ইরান আর কতদিন এই যুদ্ধ টেনে নিতে পারবে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি-র বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন,
“ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ অন্তত ছয় মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।”
তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইরানের সামরিক বাহিনী এখনো দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রস্তুতি ও সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে তারা মনে করছে।
নাইনির এই মন্তব্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীত। ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সফল হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন,
“আমরা এ যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতছি। আমরা তাদের পুরো ‘শয়তানি সাম্রাজ্য’ গুঁড়িয়ে দিয়েছি।”
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধ আরও কিছুদিন চলতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সাফল্যের দাবি করছে, অন্যদিকে ইরান বলছে তারা দীর্ঘ সময় ধরে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান এই সংঘাত ইতোমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তা শুধু আঞ্চলিক নয় বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের সময়কাল এবং এর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সামরিক কৌশলের ওপর।

