দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ শতাংশে। শুক্রবার প্রকাশিত দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ হার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস ২৬৯ দশমিক ৯ শতাংশকেও অনেকখানি ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে পুরো বছরের জন্য এখনো কোনো পূর্বাভাস প্রকাশ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করেন। পরে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন। বর্তমানে দুই দেশ দ্রুত কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পথে রয়েছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ যৌথভাবে উন্নয়নের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
তবে সাধারণ মানুষের জীবনে এখনো স্বস্তি ফেরেনি, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধের দামে। রাজধানী কারাকাসের ৫৮ বছর বয়সী হিসাবরক্ষক আলিক্স আপন্তে বলেন, ‘সবজি কিনতে আমাকে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যেতে হয়, যা হওয়া উচিত নয়।’
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভেনেজুয়েলায় গড় মাসিক আয় ১০০ থেকে ৩০০ ডলার, যা ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা পূরণ করতেও যথেষ্ট নয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে খাদ্য ও পানীয়ের দাম বেড়েছে ৫৩২ শতাংশ, বাড়িভাড়া বেড়েছে ৩৪০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ বেড়েছে ৪৪৫ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ছিল, দেশে আবারও ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি ফিরে আসতে পারে, যেখানে মাসে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। এর আগে ২০১৮ সালে দেশটিতে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শতাংশে পৌঁছেছিল। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়।
তবে নতুন ভারপ্রাপ্ত নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ কিছু অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আরও কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নতুন করে টাকা ছাপানো বন্ধ, ডলার ব্যবহারের অনুমোদন এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।
সূত্র: এএফপি

