মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব এবার পাকিস্তানেও পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য জ্বালানি তেল সংকটের আশঙ্কায় করাচির বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধও রাখতে হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ডন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেক মানুষ আগেভাগেই পেট্রল ও ডিজেল মজুত করতে চাইছেন। ফলে পাম্পগুলোতে হঠাৎ করেই ভিড় বেড়ে গেছে।
গতকাল পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম ডিলাররা সারা দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুতই দেশের অনেক পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে যেতে পারে।
পাকিস্তান সরকার অবশ্য বারবার বলছে, দেশে পেট্রল ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই।
তবে নতুন জ্বালানি মূল্যের ঘোষণা কার্যকর হওয়ার আগের রাতেই অনেক নাগরিক তড়িঘড়ি করে পাম্পে ভিড় করেন। ভবিষ্যতে দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই আগেই জ্বালানি কিনে নিতে চান।
এই আতঙ্কই মূলত পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া পেট্রোলিয়াম ডিলারস অ্যান্ড কটেজ কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য সচিব নাজিবুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের কাছে পেট্রল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
তার মতে, এর ফলে ইতোমধ্যেই অনেক এলাকার পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে আগামী সোমবারের মধ্যে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পেট্রল পাম্পের মজুদ শেষ হয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম সচিব এবং তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (ওজিআরএ)–এর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন নাজিবুল্লাহ।
তার মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
অ্যাসোসিয়েশনের প্রাদেশিক সভাপতি গুল নওয়াজ খান জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে এপ্রিলের মধ্যে দেশের অনেক পাম্প পুরোপুরি জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
গুল নওয়াজ খান সরকারের কিছু পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে অবৈধ মজুদের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
কিন্তু তার প্রশ্ন—যখন কোম্পানিগুলোই পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছে না, তখন ডিলারদের ওপর এমন অভিযোগ কীভাবে আনা হয়?
ডিলারদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে দেশের পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
এতে শুধু পরিবহন খাতই নয়, সামগ্রিক জনজীবনও স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

