ইরানে চলমান মার্কিন বিমান হামলায় ব্রিটিশ সরকার সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য জারা সুলতানা। তাঁর দাবি, মার্কিন বি–১ বোমারু বিমানগুলো ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করেই ইরানে হামলা চালাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জারা সুলতানা বলেন, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ব্রিটিশ মাটিতে অবতরণ করছে এবং সেখান থেকেই উড়ে গিয়ে ইরানে বোমা ফেলছে। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্য বাস্তবে এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে।
তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধের অংশ নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের ঘোষিত অবস্থান এবং বাস্তব সামরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্পষ্ট অমিল রয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলার ক্ষেত্রে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে। তবে জারা সুলতানার এই অভিযোগ সেই বক্তব্যকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের মাটিতে অবতরণ করে মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী ও দ্রুতগামী বোমারু বিমান বি–১ ল্যান্সার। বিশালাকৃতির এই যুদ্ধবিমানটি গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অবতরণ করে।
১৪৬ ফুট লম্বা এবং ১৩৭ ফুট ডানার বিস্তারবিশিষ্ট এই বি–১ ল্যান্সার বিমানটি মার্কিন বিমানবাহিনীর দ্রুততম বোমারু বিমানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৯০০ মাইল বেগে উড়তে সক্ষম ৮৬ টন ওজনের এই বিমানটিতে চারজন ক্রু সদস্য থাকেন। উন্নত রাডার, জিপিএস ব্যবস্থা এবং শত্রুর প্রতিরক্ষা এড়াতে ইলেকট্রনিক জ্যামার ও ডিকয় ব্যবস্থায় সজ্জিত হওয়ায় এটিকে অত্যন্ত কার্যকর যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সামরিক মহলে এটি ‘দ্য বোন’ নামেও পরিচিত এবং একসঙ্গে ২৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম।

