মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ কমান্ডো বাহিনী পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও তারা প্রস্তুত।
ট্রাম্পের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য সব পদক্ষেপের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরান চাইলে ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে অস্ত্রমানের পারমাণবিক উপাদান তৈরি করতে সক্ষম। এই তথ্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ওই কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ বর্তমানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় সংরক্ষিত রয়েছে। এসব স্থাপনা হলো—
-
নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্র
-
ফরদো পারমাণবিক স্থাপনা
-
ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্র
বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এখানেই তাদের মূল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প জানান, প্রয়োজনে ওই ইউরেনিয়াম জব্দ করার জন্য বিশেষ কমান্ডো বাহিনী পাঠানোর বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সম্ভাবনাকেই বাদ দেওয়া হচ্ছে না।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখনো “সব বিকল্প খোলা আছে” এবং দেশের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যা প্রয়োজন হবে, তা করতেই প্রস্তুত রয়েছে ওয়াশিংটন।
যুদ্ধ বা সংঘাত কত দিন পর্যন্ত চলতে পারে—এ বিষয়ে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পরিকল্পনার তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ধারণা দিয়েছিলেন, সম্ভাব্য এই সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মনে করে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক এসব মন্তব্য এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্বরাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

