ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পরিবারের একাধিক সদস্য হারানোর শোক নিয়েই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। সূত্র: এনডিটিভি
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া বিমান হামলায় মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং দুই ছেলের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। এই দম্পতির একটি মেয়েও রয়েছে।
মোজতবা খামেনির বাবা আলি খামেনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। চলমান যুদ্ধে প্রাণ হারানো পরিবারের প্রথম সদস্য তিনি। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনির মা মনসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ একই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং কয়েকদিন পর হাসপাতালে মারা যান।
ফলে এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন ঘনিষ্ঠ স্বজনকে হারিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা।
কিছু সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই সংঘাতে মোজতবা খামেনির আরও চারজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মারা গেছেন। তবে এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাঁর এক বোন, এক ভাগ্নে, এক ভাগ্নি এবং এক ভগ্নিপতিকে হারিয়েছেন।
এতে তাঁর পরিবারের মোট নিহতের সংখ্যা আটজনে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিমান হামলায় নিহতদের নাম নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। আলি খামেনির চার ছেলে এবং দুই মেয়ে ছিলেন। নিহত নাতি-নাতনিরা তাঁর ছয় সন্তানের যেকোনো একজনের পরিবারের সদস্য হতে পারেন।
ইরানের ৮৮ সদস্যের আলেমদের একটি পরিষদ ভোটের মাধ্যমে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তবে ভোটের ব্যবধান প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ড কাঠামো এবং সমান্তরাল ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মোজতবা খামেনির ক্ষমতা গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তবে ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি রোববার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যদি সে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পায়, তবে সে খুব বেশিদিন টিকতে পারবে না।” সোমবার আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “দেখা যাক কী হয়।”
এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঘোষণা দেওয়ার আগেই ইসরাইল হুমকি দিয়েছিল, যাকেই নির্বাচিত করা হবে তাকেই তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে। তবে ঘোষণার পর এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি দেশটি।
সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনি এখন ইরানের রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার প্রায় সব অঙ্গের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্বের অধিকারী। এই পদটি কেবল প্রতীকী নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়ও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সোমবার মধ্য ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে এবং বৈরুতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতেও আঘাত করেছে।
মানবিক ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যাও বাড়ছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বেসামরিক নিহতের সংখ্যা ১,৩৩২ জনে পৌঁছেছে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের সপ্তম সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে।

