মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের সময়সীমা সংক্রান্ত মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। বাহিনীটির বক্তব্য, চলমান সংঘাত কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে। গত ১০ দিনের এই সংঘাতকে তিনি ‘স্বল্পমেয়াদি সফর’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ইরানে চালানো সামরিক অভিযানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।
তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের হামলার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি অব্যাহত রাখলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হবে।
এই মন্তব্যের জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, অপমানজনক পরাজয়ের পর এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘ভুয়া সামরিক সাফল্যের গল্প’ তৈরির চেষ্টা করছেন। তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে নায়েইনি বলেন, এই যুদ্ধের সমাপ্তি কখন হবে তা ইরানই নির্ধারণ করবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে এবং তারা এখন সম্মানজনকভাবে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে। নায়েইনির প্রশ্ন, কেন মার্কিন প্রশাসন তাদের জনগণের কাছে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরছে না। তার ভাষ্য, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে—এ তথ্য আমেরিকানদের জানতে দিতে চান না ট্রাম্প।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমে গেছে—এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি জানান, যুদ্ধের প্রথম দিকের তুলনায় বর্তমানে আরও বেশি সংখ্যক এবং অধিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির ওয়ারহেডের ওজন এক টনেরও বেশি বলে তিনি দাবি করেন।
জ্বালানি তেল রপ্তানি নিয়েও সতর্কবার্তা দেন নায়েইনি। তিনি বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে হামলাকারী দেশ এবং তাদের সহযোগীদের কাছে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। তেল ও গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচেষ্টা কেবল সাময়িক এবং শেষ পর্যন্ত নিষ্ফল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে প্রতিশোধমূলক হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তারা জানিয়েছে, ‘অপারেশন প্রমিজ ৪’-এর ৩৩তম দফার হামলা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এখন থেকে ইসরায়েলসহ অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে কেবল তাদের সবচেয়ে ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে, যেগুলোর ওজন এক টন বা তারও বেশি।
অন্যদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে চীন, ফ্রান্স এবং রাশিয়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এসব দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দিষ্ট প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমানে যে ধরনের হামলা চলছে অথবা গত জুনে যে ধরনের আগ্রাসন দেখা গেছে, ভবিষ্যতে আর এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না—এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে যাবে না।
সূত্র: আল জাজিরা

