ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও তেলজাত পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জ্বালানি খাতের গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেনজি।
গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। উড ম্যাকেনজির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্যের সরবরাহ বিশ্ববাজারে কার্যত কমে গেছে। অথচ এ অঞ্চলের দেশগুলো মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তরল জ্বালানি উৎপাদন করে। এর মধ্যে বড় অংশই রপ্তানির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে যায়। সংঘাতের প্রভাবে সেই রপ্তানির উল্লেখযোগ্য অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে তেলের দামে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেলের চাহিদা রয়েছে। সরবরাহ কমে গেলে বাজারের ভারসাম্য রাখতে সাধারণত দুটি পথ খোলা থাকে—চাহিদা কমে যাওয়া অথবা দাম বেড়ে যাওয়া। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্যারেলপ্রতি অন্তত ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। উড ম্যাকেনজি আরও সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্তও পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ পরিস্থিতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ইউরোপে। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের রিফাইনারিগুলো ইউরোপের জন্য জেট জ্বালানি ও ডিজেলের বড় সরবরাহকারী। তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে ব্যবহৃত জেট জ্বালানির প্রায় ৬০ শতাংশ এবং ডিজেলের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে ইউরোপের জ্বালানি বাজার বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।

