মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে। তার মতে, দেশটিতে হামলার মতো কার্যত আর তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই।
বুধবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস–কে দেওয়া সংক্ষিপ্ত এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
প্রায় পাঁচ মিনিটের ওই কথোপকথনে তিনি বলেন, ‘এদিক–ওদিক সামান্য কিছু বাকি আছে। আমি যখন চাইব, তখনই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।’
ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘যুদ্ধ দারুণভাবে এগোচ্ছে। আমরা নির্ধারিত সময়সূচির চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। আমরা যে ছয় সপ্তাহের পরিকল্পনা করেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতি এর মধ্যেই করে ফেলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের বৈরিতা শুধু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই হুমকি ছিল না; এটি পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পেছনে লেগেছিল। গত ৪৭ বছর ধরে তারা যে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এখন তারই মূল্য দিচ্ছে। এটি প্রতিশোধের সময়। তারা এত সহজে পার পাবে না।’
অন্য নেতাদের অবস্থান-
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। যুদ্ধ কখন থামবে সে বিষয়ে এখনও কোনো অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বুধবার বলেন, যুদ্ধ চলবে ‘বিনা সময়সীমায়, যতদিন প্রয়োজন হয়, যতক্ষণ না আমরা আমাদের সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারি এবং এই অভিযানে চূড়ান্তভাবে জয়ী হই।’
এদিকে ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানে অন্তত আরও দুই সপ্তাহ হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি–তে মাইন বসাতে শুরু করেছে ইরান।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ঠিক কতগুলো মাইন স্থাপন করেছে তা এখনও পরিষ্কার নয়, তবে তাদের ধারণা সংখ্যাটি খুব বেশি নয়। ট্রাম্প জানান, মঙ্গলবার মার্কিন হামলায় মাইন বসানোর কাজে যুক্ত ১৬টি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইরানের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে।
বুধবার এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড–এর কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হয়রানি করা এবং শক্তি প্রদর্শনে ইরানের সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করাই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ছে, আর ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতা কমছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

