ইউরোপের গ্যাস মজুদ সংকট শীতকালীন চাহিদার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে মহাদেশের মজুদাগারে মাত্র ৩৭০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস রয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন। শীতের আগে নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মজুদকে কমপক্ষে ২ হাজার বিসিএফে উন্নীত করতে হবে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ২৩৫ দিনে দৈনিক গড়ে ৬.৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সংরক্ষণ করতে হবে, যা দৈনিক দুটি বড় এলএনজি ট্যাংকার খালাস করার সমান।
২০২৬ সালের শুরুতে ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাস বাজারে যে আশার আলো দেখা দিয়েছিল, ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ তা ম্লান হয়ে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় মহাদেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, ২০২৫ সালে কাতার ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাতার থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় ইউরোপের গ্যাস মজুদ দ্রুত কমছে। লন্ডনভিত্তিক এলএসইজি ও কেপলার সংস্থার তথ্যানুযায়ী, শীতকালীন চাহিদা মেটাতে এখন ইউরোপকে মজুদে বিশাল মাত্রা গ্যাস যোগ করতে হবে, যা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
চড়া দাম এবং সরবরাহ সংকটের প্রভাব শিল্প খাতে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। সার, রাসায়নিক ও ইস্পাত কারখানাগুলো গ্যাস ব্যবহার কমিয়েছে। বিশেষ করে জার্মানির অটোমোবাইল শিল্পে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে, ফক্সওয়াগনের মতো প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের নীতিনির্ধারকরা গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ ও বায়োমিথেনের দিকে ঝুঁকছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর প্রক্রিয়া হওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

