ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরাকের আকাশসীমায় একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম), যা ইরান যুদ্ধের সামরিক অভিযান তদারকি করছে।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে বন্ধুপ্রতিম আকাশসীমায় এই দুর্ঘটনা ঘটে এবং বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় দুটি উড়োজাহাজ জড়িত ছিল। এর মধ্যে একটি পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অন্যটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
বিবৃতিতে সেন্টকম দাবি করেছে, শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা ভুলবশত নিজেদের বাহিনীর হামলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটিতে ছয়জন আরোহী ছিলেন। তবে উড়োজাহাজটি ঠিক কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাঝ আকাশে দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে চলমান সংঘাতের শুরুতে কুয়েতে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। তখন সেন্টকম জানিয়েছিল, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থেকে ভুলবশত ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানগুলো ভূপাতিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় ছয়জন ক্রুই নিরাপদে বের হয়ে আসেন।
কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজ মূলত আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করে। লক্ষ্যবস্তু দূরে হলে এই ট্যাংকার উড়োজাহাজগুলো যুদ্ধবিমানকে দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার সুযোগ দেয়, যা সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। ট্যাংকার বিমান থেকে একটি বিশেষ নল বা ‘প্রোব’ নিচে নামানো হয় এবং অন্য যুদ্ধবিমান সেটির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে আকাশেই জ্বালানি গ্রহণ করে। পুরো প্রক্রিয়ায় দুটি উড়োজাহাজকে খুব কাছাকাছি অবস্থানে উড়তে হয়।
সাধারণত একটি কেসি-১৩৫ বিমানে তিনজন ক্রু থাকেন—একজন পাইলট, একজন কো-পাইলট এবং একজন বুম অপারেটর। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, তাদের বহরে এ ধরনের প্রায় ৪০০টি ট্যাংকার উড়োজাহাজ রয়েছে।
বোয়িং নির্মিত কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার মূল ভরসা। ১৯৯৮ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি উড়োজাহাজের উৎপাদন খরচ ছিল প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। বর্তমানে নতুন করে তৈরি না করে এসব উড়োজাহাজ আধুনিকায়নের মাধ্যমে ব্যবহারে রাখা হচ্ছে।

