ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ইরানে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের এই অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত সেন্টকমের নতুন তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে ৬০টি জাহাজ এবং ৩০টি মাইন বসানোর নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে কমান্ড সেন্টার, অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, সাবমেরিন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বিবিসি নিউজ ফার্সি জানিয়েছে, তেহরানে শুক্রবার ভোর প্রায় ৫টা পর্যন্ত টানা বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার শব্দ শোনা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, আরাক শহরেও বিমান হামলার চিহ্ন রয়েছে। একই ধরনের খবর পাওয়া গেছে কারাজ শহর থেকেও।
তেহরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালের বিস্ফোরণগুলো এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বিস্ফোরণস্থল থেকে অনেক দূরেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-ও শুক্রবার সকালে বিশেষ করে দক্ষিণ তেহরানে বিমান হামলা ও বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন “খুব দ্রুত এগোচ্ছে” এবং “খুব ভালোভাবে চলছে”।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস ও ঘৃণার সঙ্গে জড়িত এবং এখন দেশটি তার জন্য বড় মূল্য দিচ্ছে। তার এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

