লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের এক হামলায় অন্তত ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও নার্স রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এই হামলার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ কালাউইয়া শহরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে সেখানে কর্মরত ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হন।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং নার্স ছিলেন, যারা আহত মানুষদের সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে চিকিৎসাসেবা চলছিল বলে জানা গেছে। ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে একই অঞ্চলের কাছাকাছি সাওয়ানেহ শহরে পৃথক আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় হিজবুল্লাহ এবং তাদের সহযোগী সংগঠন আমাল মুভমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুইজন প্যারামেডিক নিহত হন। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এদিকে ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চলেও নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরান ও হিজবুল্লাহ যৌথভাবে ইসরাইলের কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ হামলায় কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষ করে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের আপার গ্যালিলি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই অঞ্চলটি লেবানন সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার আশঙ্কা আগেই ছিল। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সেই আশঙ্কা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইল, ইরান এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে হামলা ও পাল্টা হামলার এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।

