ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে মার্কিন বাহিনী বোমা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালির নিকটে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, খারগ দ্বীপে অবস্থিত ইরানের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু এই হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প খারগ দ্বীপকে ইরানের ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই দ্বীপটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত স্থান। হামলায় দ্বীপটির সামরিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ট্রাম্প জানান, হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে যুক্তরাষ্ট্র সেই তেল স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু করতে পারত, কিন্তু আপাতত তা করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান বা অন্য কোনো পক্ষ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। এমন পরিস্থিতিতে তেল স্থাপনাগুলোর ওপরও হামলা চালানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। টানা ১৫ দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, যেখানে দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানির বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।
এই প্রণালিতে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে খারগ দ্বীপে হামলার দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

