Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, এপ্রিল 9, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » পেট্রোডলার: ডলারের অদৃশ্য দাপট ও বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ
    বিশ্ব অর্থনীতি

    পেট্রোডলার: ডলারের অদৃশ্য দাপট ও বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ

    এফ. আর. ইমরানUpdated:এপ্রিল 9, 2026এপ্রিল 9, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    পেট্রোডলার: ডলারের অদৃশ্য দাপট ও রাজনীতির সমীকরণ। প্রতীকি ছবি
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে ‘পেট্রোডলার’ কেবল একটি শব্দ নয়, বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যের মেরুদণ্ড। অর্ধশতাব্দী ধরে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়েছে ওয়াশিংটনের মুদ্রায়। কিন্তু আজ, ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্ব অর্থনীতি একটি বড় ধরনের সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে।

    গত কয়েক বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ব্রিকস (BRICS) দেশগুলোর মুদ্রা-বিপ্লব পেট্রোডলারের সেই একক আধিপত্যকে এমনভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে যা ১৯৭১ সালের পর আর কখনও দেখা যায়নি।

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: স্বর্ণ থেকে তেলের দিকে যাত্রা

    ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে ডলারকে স্বর্ণের বিপরীতে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছিল। কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধের খরচ মেলাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যখন সংকটে পড়ে, তখন ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ডলারের সাথে স্বর্ণের সম্পর্ক ছিন্ন করেন। ডলারের পতন ঠেকাতে তখন প্রয়োজন ছিল একটি নতুন শক্তিশালী আধারের। ১৯৭৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের কূটনৈতিক বুদ্ধিতে সৌদি আরবের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়। চুক্তিটি ছিল সহজ কিন্তু প্রভাবশালী: সৌদি আরব তার সমস্ত তেল ডলারে বিক্রি করবে এবং উদ্বৃত্ত অর্থ মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করবে; বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি রাজপরিবারকে দেবে সামরিক সুরক্ষা। এই ‘তেল-ডলার-নিরাপত্তা’ ত্রয়ী থেকেই জন্ম নেয় পেট্রোডলার ব্যবস্থা।

    ডলারের অদৃশ্য শক্তির উৎস

    পেট্রোডলার ব্যবস্থার কারণে গত ৫০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি বড় সুবিধা ভোগ করে আসছে।

    প্রথমত, আমদানিকারক দেশগুলোকে তেল কেনার জন্য সর্বদা ডলারের রিজার্ভ রাখতে হয়, যা ডলারের কৃত্রিম চাহিদা বজায় রাখে।

    দ্বিতীয়ত, তেল সমৃদ্ধ দেশগুলো তাদের অর্জিত ডলার আবার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক বা বন্ডে ফিরিয়ে আনে, যাকে ‘পেট্রোডলার রিসাইক্লিং’ বলা হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রকে সস্তায় ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেয়।

    তৃতীয়ত, সুইফট (SWIFT) পেমেন্ট সিস্টেমের ওপর নিয়ন্ত্রণ। যেহেতু অধিকাংশ লেনদেন ডলারে হয়, তাই যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো দেশকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে এক নিমেষে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও রাশিয়ার ক্ষেত্রে দেখা গেছে।

    আহমেদ জাকি ইয়ামানি: তেলের রাজনীতি ও প্রজ্ঞার প্রতীক

    পেট্রোডলার ব্যবস্থার পেছনে অন্যতম মস্তিষ্ক ছিলেন সৌদি আরবের দীর্ঘকালীন তেলমন্ত্রী আহমেদ জাকি ইয়ামানি। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ও হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়া ইয়ামানি বুঝতে পেরেছিলেন, তেল কেবল একটি জ্বালানি নয়, এটি একটি রাজনৈতিক অস্ত্র। ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের সময় তিনি ও রাজা ফয়সাল মিলে পশ্চিমাদের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, তা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে তেলের নিয়ন্ত্রণই বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ। পরবর্তীতে ইয়ামানিই পেট্রোডলারের স্থপতি হিসেবে ভূমিকা রাখেন, যা সৌদি আরবকে আধুনিক বিশ্বের এক প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত করে।

    বর্তমান সংকট: কেন কাঁপছে পেট্রোডলারের ভিত্তি?

    ২০২৬ সালের আজকের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে, পেট্রোডলারের সেই অভেদ্য দেয়ালে ফাটল ধরেছে। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ দায়ী:

    • রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব: ২০২২ সালে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর মস্কো তার তেলের বিনিময়ে ডলারের পরিবর্তে রুবল ও ইউয়ান গ্রহণ করা শুরু করে। এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেয় যে, ডলার নির্ভরতা বিপজ্জনক হতে পারে।
    • চীনের ইউয়ান ডিপ্লোম্যাসি: চীন এখন বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তারা সৌদি আরবসহ গালফ দেশগুলোর সাথে সরাসরি ইউয়ানে লেনদেনের চুক্তি করে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে আমরা দেখেছি, ইরান ও চীন তাদের দ্বিপাক্ষিক তেলের বাণিজ্যের প্রায় ৭০% ইউয়ানে সম্পন্ন করছে। একেই বিশেষজ্ঞরা ‘পেট্রোইউয়ান’ ব্যবস্থা বলছেন।
    • ব্রিকস (BRICS) মুদ্রার উত্থান: ব্রিকস জোটের সম্প্রসারণ (নতুন যুক্ত হওয়া দেশসহ) বৈশ্বিক বাণিজ্যে ডলারের বিকল্প খোঁজার গতিকে ত্বরান্বিত করেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক সম্মেলনে ব্রিকস দেশগুলো তাদের নিজস্ব ‘ব্রিকস পে’ বা ডিজিটাল মুদ্রা চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে।

    হরমুজ প্রণালী ও ইরানের কৌশলগত চাল

    বিশ্বের মোট জ্বালানি প্রবাহের প্রায় ২০% নিয়ন্ত্রিত হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক সংকটে ইরান ঘোষণা করেছে যে, এই জলপথ দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের ক্ষেত্রে ইউয়ান বা বিকল্প মুদ্রায় লেনদেনকারী দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এটি মূলত ডলারের আধিপত্যের ওপর একটি সরাসরি আঘাত। যদি তেল প্রবাহের এই প্রধান ধমনী ডলারমুক্ত হয়, তবে মার্কিন অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

    ভারত ও ডি-ডলারাইজেশন: বাস্তববাদী মধ্যপন্থা

    ভারত এই খেলায় অত্যন্ত চতুর ও বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছে। ভারত সরাসরি ডলারবিরোধী নয়, কিন্তু তারা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছে। আজ অবধি ভারতের প্রায় ৩০% তেল আমদানি হচ্ছে মার্কিন ডলারের বাইরে অন্য মুদ্রায় (যেমন দিরহাম বা রুপি)। ভারতের এই ‘মাল্টি-কারেন্সি’ এপ্রোচ অন্য অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    পেট্রোডলার ধসের পরিণাম কী হতে পারে?

    যদি পেট্রোডলার ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়বে। ডলারের চাহিদা কমে গেলে তার মান কমে যাবে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক খবরদারি করার ক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়বে। কারণ, তারা তখন আর নিজের ইচ্ছেমতো অন্য দেশের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারবে না।

    একটি বহুমেরু বিশ্বের অভিমুখে

    পেট্রোডলার ব্যবস্থা একদিনে গড়ে ওঠেনি, আর এটি একদিনে শেষও হবে না। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডলার এখনও বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা। তবে এটি আর একমাত্র বিকল্প নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বিশ্বের দেশগুলো এখন তাদের ডিমের ঝুড়ি (Basket of Currencies) আলাদা আলাদা রাখছে।

    আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি আর কোনো একক শক্তির ইশারায় চলবে না। তেল ও ডলারের সেই পুরনো জোট এখন চীন, ভারত, রাশিয়া এবং গালফ দেশগুলোর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি।

    পেট্রোডলারের ‘অদৃশ্য দাপট’ হয়তো পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না, তবে তা এখন থেকে বহুমেরু বিশ্বের একটি সাধারণ শক্তি হিসেবেই বিবেচিত হবে। বিশ্ব রাজনীতির এই খেলা এখন আর কেবল তেলের খনিতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন ডিজিটাল ওয়ালেট এবং ভূ-রাজনৈতিক সাহসের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    হরমুজ প্রণালির কৌশলেই কি ট্রাম্পকে নতিস্বীকার করাল ইরান?

    এপ্রিল 9, 2026
    অপরাধ

    আসিফ নজরুল: ভদ্রাচারে ঢাকা এক দুর্নীতির পণ্ডিত

    এপ্রিল 9, 2026
    মতামত

    যেভাবে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সব ক্ষমতা দিয়ে দিল

    এপ্রিল 8, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.