মামুন রশীদ, ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মামুন রশীদ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন অর্থনীতি ও ব্যবসায় প্রশাসনে। তার প্রায় ৪০ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতা রয়েছে তিনটি আন্তর্জাতিক ব্যাংক, বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোয়। বর্তমানে তিনি বিডি ভেঞ্চার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপআপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেড, ন্যাশনাল টি কোম্পানি এবং মেরিস্টোপস ক্লিনিক সোসাইটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি পাইপলাইন কোম্পানি গঠনে তার অবদান রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দেশের তেল ও গ্যাস আমদানি ব্যাহত করতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং জনজীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় সরকার ও ব্যবসায় সম্প্রদায়কে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। মামুন রশীদ মনে করেন, যথাযথ প্রস্তুতি এবং বৈকল্পিক উৎসের ব্যবহার দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি সংকট গোটা বিশ্বেই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আর মাসখানেক জ্বালানি তেলের মজুদ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে পারবে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ কী?
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত শুধু জ্বালানি তেলই নয়, বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকেই বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। অর্থাৎ ৭০-৮০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির মাধ্যমে আনা হয়। আর যে পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করা হয় তার বিরাট অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যদিও দূরপ্রাচ্য থেকে আমাদের আমদানি গত কয়েক বছরে বেড়েছে।
সৌদি আরামকো, আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন, কুয়েত পেট্রোলিয়াম, এমিরেটস অয়েল, গালফ অয়েল লুব্রিকেন্ট, মিসরের জ্বালানি তেল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো জাহাজের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে। আর সুষ্ঠুভাবে জ্বালানি পরিবহনে হরমুজ প্রণালিই সবচেয়ে সহজ রুট। যুদ্ধের কারণে কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ বা ট্যাংকার চলাচল করতে পারছে না। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি অবারিত হচ্ছে না, কারণ এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সময় আসেনি। মধ্যপ্রাচ্য বাদে পেট্রোনাস মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমরা পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করি।
সামান্য কিছু ডিজেল ও অন্যান্য ফার্নেস অয়েল চীন ও ভারত থেকেও আমদানি করা হয়। আর ওমান, সৌদি আরব এবং বিশেষভাবে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করি। সম্প্রতি কিছু পরিমাণ এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিচ্ছি। আমাদের এফএসআরইউ বা যেসব ফ্লোটিং টার্মিনাল আছে সেগুলো মার্কিন প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আমরা জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর।
জ্বালানি খাতে আমাদের মূল সমস্যা কোথায়? সেখান থেকে উত্তরণে করণীয় কী?
বাংলাদেশ তো আর শ্রীলংকা নয়। আমরা বিকাশমান অর্থনীতি। আমাদের ট্রেড ভলিউম শ্রীলংকার তুলনায় অনেক বেশি। জনসংখ্যার আধিক্য ও মবিলিটির কারণে অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধিও বেশি। স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানি নিরাপত্তা আমাদের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন আমরা কিছুটা হলেও জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। অন্তত এ সুবিধা বিবেচনায় আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা। এজন্য বিকল্প বাজারগুলোকে বিবেচনা করতে হবে। জ্বালানি, অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক্ষেত্রে সমন্বিত ভূমিকা রাখতে হবে।
এ তিন মন্ত্রণালয় জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করে সিঙ্গাপুর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি ভারতের মতো আমরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি। যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতিক্রমে আমরাও রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারি কিনা সে প্রচেষ্টা রাখা জরুরি এবং উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। গত বছর ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্কে জটিলতাও দেখা দিয়েছিল। তবে আলোচনার মাধ্যমে বর্তমানে এ জটিলতা অনেকটাই দূর হচ্ছে। এখানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
আমরা জানি রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক জ্বালানি তেল আমদানির এলসি খুলে থাকে। আর বিদেশী ব্যাংকের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও এইচএসবিসি রয়েছে। বেসরকারি দেশীয় ব্যাংকের মধ্যে ব্র্যাক আর সিটি ব্যাংক ছাড়াও অন্যকিছু ব্যাংক মাঝে মাঝে জ্বালানি ঋণপত্র খোলে। এসব ব্যাংকের কারো কারো মাধ্যমে এলএনজি, এলপিজির এলসি খুলে আমদানির পথটি সুগম করা যেতে পারে। যদি এসব ব্যাংকের ডলার প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিতে পারে।
জ্বালানি খাতে আমাদের অতি আমদানিনির্ভরতা রয়ে গেল কেন?
২০১৬ সালের পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী আমাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশই তো বিকল্প উৎস থেকে আসার কথা। তা আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। কেন পারিনি? এখানে একাধিক কারণ আছে। প্রথমত, রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টগুলো অকেজো ছিল। তাছাড়া ছোট ছোট আইপিপিতে অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। সরকারের পাওয়ার পারচেজ পলিসিও ঠিক ছিল না। পূর্ববর্তী এসব সমস্যা থেকে সরে আসতে গেলে সাহসিকতা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা জরুরি। আর এমনটা সরকারের পক্ষে মধ্যমেয়াদে করা সম্ভব। এখনই আশু সমাধান পাব না।
অনেকে বলছেন আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জ্বালানি আহরণ করা জরুরি। এর মাধ্যমে আসলে মূল সংকট কতটা দূর হবে?
আমাদের এক্ষেত্রে টেন্ডার করতে হবে। আবার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সহায়তা নেয়ার জন্য এখানে নিয়ে আসতে হবে। বাপেক্সেরই গবেষণা বলছে, ২০৩০ সালের পর দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সঞ্চয় অনেক কমে আসবে। এমন বাস্তবতা বিবেচনায় আমাদের তো নতুন উৎস খুঁজতেই হবে। যদি তা করতে না পারি, তাহলে আমাদের বিকল্প উৎসের দিকে চলে যেতে হবে। এখনো সংকট কাটানোর কোনো সূত্র যেহেতু নেই সেহেতু আমাদের বিকল্প উৎসের দিকে যেতেই হবে।
বিকল্প উৎসের প্রসঙ্গ এলেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা আসে। এ খাতটা কেন এত বছরেও বিকশিত হলো না?
আমাদের প্রাইসিং মেকানিজমটা আসলে ভালো ছিল না। তাছাড়া সৌরবিদ্যুৎকে আমরা মেইনস্ট্রিমিং করতে পারিনি। সোলার বরাবরই সাবসিডির ওপর নির্ভরশীল ছিল। আবার সরকার এ সাবসিডি কীভাবে দেবে আর সেটা কীভাবে উইথড্র করা হবে, এসব বিষয় স্পষ্ট নয়। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের জন্য যে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো জরুরি তা আমরা কখনই এখানে নিয়ে আসতে পারিনি। সমস্যা হলো, রাজনৈতিক বিবেচনায় নবায়নযোগ্য শক্তির লাইসেন্সিং করা হয়েছে।
এখন বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো জয়েন্ট ভেঞ্চারের জন্য এখানে বিনিয়োগ করতে এসে দেখে ল্যান্ড টাইটেলটাই ঠিক নেই। আমাদের পর্যাপ্ত ভূমির অভাব আছে। ল্যান্ড হাংগ্রি কান্ট্রিই তো আমরা। নবায়নযোগ্য শক্তি অবকাঠামোর জন্য যে পরিমাণ ভূমি দরকার তা আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না। অন্তত বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে এটা কঠিন। এটাও সত্য, দক্ষিণাঞ্চলে গৃহস্থালি চাহিদা মেটাতে যে অবকাঠামো রয়েছে সেটাকে মেইনস্ট্রিম করার জন্য পর্যাপ্ত নীতিসহায়তা আসলে মেলেনি। এগুলো ভেবেই আসলে নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে এগোতে হবে।
জ্বালানির জন্য আমরা বড় আকারে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। কয়েকদিন পর পরই যুদ্ধ সংঘাত বাধে সেখানে। আমাদের সামনে আর বিকল্প বাজার কী কী আছে?
আমরা কয়লা, এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েল, ডিজেল, ফার্নেস অয়েল—এগুলোই আমদানি করি। আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন ক্ষমতা সীমিত। মাত্র ১৫ লাখ টন। মাঝেমধ্যে এ পরিমাণ কমেও যায়। অধিকাংশ সময়ই কুয়েত পেট্রোলিয়াম, পেট্রোনাস, সৌদি আরামকো, আবুধাবি ন্যাশনাল করপোরেশন থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে হয় আমদানির মাধ্যমে। এ আমদানির জন্য আমাদের জাহাজীকরণ, সরবরাহ ব্যয়, চুক্তির খরচ বহন করতে হয়। সম্প্রতি আমরা এজন্য দুটো চুক্তি করেছি এলএনজি আমদানির জন্য। তাতে খরচ বেড়েছে।
খেয়াল করে দেখবেন, যে ব্র্যান্ট ক্রুড ওয়েল রয়েছে, তার খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। তাই জ্বালানি তেলের জন্য অনেক দেশ ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। আর এলএনজির জন্য তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছে। এখন চীনের সঙ্গে আলোচনা না করে তাইওয়ানের সঙ্গে এ-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য আমাদের পক্ষে করা হয়তো কঠিন। তবে আপৎকালীন ভিয়েতনাম থেকে অভ্যন্তরীণ চাহিদার একাংশ মেটানো যায় কিনা তা ভাবা যেতে পারে। এখনকার বাস্তবতায় ডলারের প্রাইস ভাবলে চলবে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ন্যূনতম জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভাবতে হবে। এখন প্যানিক করলে চলবে না। সরকার তো রেশনিং ব্যবস্থাও চালু করেছিল।
কিন্তু অধিকাংশ পেট্রল পাম্পই তেল সরবরাহ করতে না পেরে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছিল। বাধ্য হয়েই এ সিদ্ধান্ত সরিয়ে নিতে হয়েছে। বাজারে কিছুটা ‘প্যানিক পারচেজ’ও শুরু হয়েছিল। আসলে যেকোনো ক্ষেত্রেই ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের অভাব আমাদের রয়েছে। এজন্য এখন বাজার ব্যবস্থাপনার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয় নিয়ে ভাবলে হবে না। বরং আমদানির প্রবাহ মসৃণ করে ফেলতে হবে। এজন্যই তো প্রথমে তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলেছি। একটা ছোট কমিটি করে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এজন্য প্রথমে যে কয়েকটি ব্যাংকের কথা বললাম, সেগুলোর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। এটা অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ।
এখন যেসব দেশের বাজার থেকে আমরা জ্বালানি তেল আমদানি করব সেসব দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ আগে থেকেই বাড়াতে হবে। ওসব দেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা শুরু করা যায়। স্মরণে আছে, ২০০৫-০৬ সালে মোরশেদ খান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তার অনুরোধে সংকটের ওই সময়ে কাউন্টার পার্টি ভারত কিছুটা জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছিল। এবারো প্রায় একই পরিস্থিতি থাকায় ভেবে দেখা যেতে পারে এবং ভালো দিক হচ্ছে, উদ্যোগটা নেয়া হয়েছে। সাময়িক সময়ের জন্য ত্বরিত এসব উদ্যোগ নিলে আমাদের সমস্যার আশু সমাধানের দিকে এগোনো কঠিন হবে না।
বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের আশু সমাধান না হলে কারখানা কার্যক্রম ও রফতানিতে কেমন প্রভাব পড়তে পারে?
আসলে আমাদের এখন দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে চলে যেতে হবে। মজুদ থাকা কয়লা বা নিউক্লিয়ারসহ অন্য জ্বালানি দিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এখন তো উৎস নিয়ে ভাবার সময় নেই। এরই মধ্যে কৃষি খাতে উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। এ সময় কৃষি কর্মকাণ্ডের পথ সুগম করার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ অবারিত রাখতে হবে। সেটা যদি না পারি, তাহলে সার্বিক অর্থনীতির জন্য বিরাট ক্ষতি।
এখন আমরা পুরোপুরি এলএনজির ওপর নির্ভর করতে পারি না। এলএনজির বাজারটা সবসময়ই অস্থির। সম্প্রতি এর দামও অনেক বেড়েছে। তাই এটি বাসাবাড়ির জন্যই ব্যবহার হওয়া শ্রেয়। কিন্তু বাসাবাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে অবশ্যই রেশনিং পদ্ধতির আশ্রয় নিতেই হবে। দেশে অনেক পাওয়ার গ্রিড আছে। সেগুলোকে হাউজহোল্ড গ্রিড থেকে সরিয়ে প্রডাকশন গ্রিডের দিকে স্থানান্তর করতে হবে। এমনটা অতীতেও করা হয়েছে। ময়মনসিংহ পাওয়ার স্টেশন, ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনের গ্রিডগুলোর বিদ্যুৎ অধিকাংশ কৃষি খাতের ব্যবস্থাপনার দিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।
এক্ষেত্রে শহরের সামান্য কিছু অংশের গ্রিড সরানো হয়নি। এভাবে কৃষির উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করা গেছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সহায়তা নিয়ে উৎপাদনশীল গ্রিডগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে হবে। আর গৃহস্থালি চাহিদা মেটাতে আমাদের বিকল্প উৎসের কথা ভাবতে হবে। এগুলো স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ। আসলে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অধীনে সব ক্ষেত্রেই আমাদের বিকল্প উৎস খুঁজে নিতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মহাপরিকল্পনাগুলোরও আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সূত্র: বণিক বার্তা

