গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমার জন্য দুটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এর একটি হলো সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। অন্যটি ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যাতে ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক—তারা এটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আরো সুদৃঢ়ভাবে আর্থিক খাতকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তবে আর্থিক খাতকে প্রতিষ্ঠিত করা এক-দুই বছরে সম্ভব নয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এ ধারাবাহিকতার শুরুটা যাতে করে দিয়ে যেতে পারি, সেটিই ছিল আমাদের লক্ষ্য। গত এক বছরে আমরা সে লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হয়েছি।
আমাদের প্রধান কাজ ছিল সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরানো। সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একেবারেই খাদের কিনারায় ছিল। সেখান থেকে যদি দ্রুত ফেরত না আসতে পারি, তাহলে খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। গভর্নর হওয়ার পর আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম যে বৈঠকটি করি, সেটি দেশের কোনো ব্যাংকারের সঙ্গে ছিল না। সে বৈঠকটি ছিল আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে। বাংলাদেশের সঙ্গে ২০০-এর বেশি বিদেশী ব্যাংকের ব্যবসা রয়েছে। আমার প্রথম বৈঠক ছিল তাদের সঙ্গে। দুবাই, সিঙ্গাপুর, নিউইয়র্ক, লন্ডনসহ সব জায়গার ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা জুমে সংযোগ স্থাপন করি। তাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ ছিল, যার যা ক্রেডিট লাইন (ঋণসীমা) আছে, সেটি আর কমাবেন না, যা আছে, সেটিই অব্যাহত রাখুন। আপনারা যদি দেখেন আমরা ভালো করছি, তাহলে আগের অবস্থায় ফেরত যাবেন। কিন্তু এ মুহূর্তে ক্রেডিট লাইন আর কমাবেন না। আপনাদের প্রত্যেকটি সেন্ট (ডলারের ক্ষুদ্র একক) পরিশোধ করে দেয়া হবে।
অতীতে বিদেশী ঋণ ও এলসি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুনাম ছিল। কিন্তু আমরা দায়িত্ব নেয়ার সময় ২৫০ কোটি (আড়াই বিলিয়ন) ডলারের দায় মেয়াদোত্তীর্ণ পেয়েছি। বিদেশী ব্যাংকগুলোকে আমি বলেছিলাম, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আপনাদের সব দায় পরিশোধ করে শূন্যে নিয়ে আসব। বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা নাগরিকের কোনো দায় অপরিশোধিত থাকবে না। দেশের ব্যাংকগুলোকে আমরা বলেছিলাম, যেকোনো মূল্যে সবার আগে বিদেশীদের দায় পরিশোধ করে দিতে। এ লক্ষ্য পূরণেও আমরা শতভাগ সাফল্য পেয়েছি।
ডলারের সংকট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে রেমিট্যান্সের দিক থেকে অসম্ভব রকমের সহযোগিতা পাওয়া গেছে। আবার রফতানি আয়ও মোটামুটি ভালো ছিল। এ দুটি খাত থেকে যে ডলার পেয়েছি, সেটি আমরা ব্যবহার করতে পেরেছি। দ্রুততার সঙ্গে আমরা আড়াই বিলিয়ন ডলারের বকেয়া দায় পরিশোধ করে দিয়েছি। প্রতিটি ব্যাংককে বলে দেয়া হয়েছিল, তারা যেন নিজেদের বকেয়া দায় পরিশোধ করে। সে দায় এস আলম কিংবা বেক্সিমকো, যারই হোক না কেন। বৈদেশিক কোনো দায় বকেয়া রাখা যাবে না। এ কারণে বিদেশী ব্যাংকগুলো এখন তাদের ক্রেডিট লিমিট আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে এনেছে। কিছু ব্যাংক লিমিট বাড়িয়েছে। এ পরিবর্তনটি আমাদের জন্য খুবই দরকার ছিল। তা না হলে শ্রীলংকা কিংবা পাকিস্তানের মতো আমাদেরও ট্রেড ফাইন্যান্স (আমদানি) বন্ধ হয়ে যেত।
মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বিনিময় হার অবশ্যই স্থিতিশীল করতে হতো। এক্ষেত্রে রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রির সুযোগ ছিল না। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল, রিজার্ভ থেকে ১ ডলারও বিক্রি করব না। এক্ষেত্রেও আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। গত বছরের ১৪ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত রিজার্ভ থেকে একটি ডলারও বিক্রি করিনি। বরং বাজার থেকে দুই মাস ধরে ডলার কেনা হচ্ছে।
আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা এলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আসেনি। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। বিরাজমান পরিস্থিতিতে এখনই কেউ বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়বে—এটি প্রত্যাশা করা কাল্পনিক। পাইপলাইনে আমরা দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এক্ষেত্রে আরেকটু সময় লাগবে। আমাদের নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ব্যালান্স অব পেমেন্ট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে আমরা এখন সারপ্লাস (উদ্বৃত্ত)। বৈদেশিক বাণিজ্যের এ তিনটি সূচকেই আমরা নেতিবাচক অবস্থানে ছিলাম। বাজারে তারল্য আসতে শুরু করেছে। আগামীতে আরো আসবে। দেশের পুঁজিবাজারও ঘুরে দাঁড়াবে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। আরো অনেক কমাতে হবে। প্রতি মাসেই যে কমবে এটি ধারণা করাও ভুল। দুই-তিন মাস কমবে, আবার কোনো মাসে বাড়বে, এটিই স্বাভাবিক। আমি এখনো আশাবাদী যে চলতি অর্থবছরের শেষের দিকে মূল্যস্ফীতির হার ৫-এর নিচে নেমে আসবে।
রাজস্ব আহরণের ঘাটতির কারণে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ কমছে না। এনবিআর সংস্কার ইস্যুতে সরকার বড় ধরনের ঝামেলা মোকাবেলা করেছে। এখন পরিস্থিতি অনুকূলে আছে। এনবিআরের ভেতরে যেসব গৃহশত্রু ছিল, তাদের দমন করা গেছে। তাদের স্বপদে বহাল রেখে সংস্থাটির সংস্কার করা সম্ভব ছিল না। এখন সুযোগ এসেছে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার।
ব্যাংক খাত সংস্কারে বিস্তৃত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১-এ ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে। বর্তমানে পরিচালকদের টানা ১২ বছর পর্যন্ত ব্যাংকের পর্ষদে থাকার সুযোগ রয়েছে, সেটি কমিয়ে করা হচ্ছে ছয় বছর। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে কমানো হবে পরিচালকের সংখ্যা এবং পর্ষদের অর্ধেক সদস্য হবেন স্বতন্ত্র পরিচালক। তাদের নির্বাচনের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হবে। এরই মধ্যে আইনটির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং আইনেও মৌলিক সংস্কার আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে অ্যাসেট রিকভারি আইনও প্রণয়ন হচ্ছে।
ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার-১৯৭২-এ। আমরা যতই সংস্কার করি না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের যদি স্বাধীনতা না থাকে, এর লিডারশিপে যদি দুর্বলতা থাকে, তাহলে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। আমরা দুর্বল লিডারশিপ দিয়ে শক্ত প্রতিষ্ঠান চালাতে পারব না। আবার শুধু শক্ত লিডার দিলেও হবে না, যদি প্রতিষ্ঠানের আইনি শক্তি না থাকে। এ দুটি জায়গায়ই কাজ করতে হবে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্থিক খাতকে সবসময় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না। পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও যেন বিষয়টি মাথায় রাখে। আর্থিক খাতকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যার ওপর রাজনৈতিক কিংবা আমলাতান্ত্রিক কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। বিগত সময়ে যে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে, সেটি আগামীতে কোনোভাবেই কোনোদিন যাতে ফিরে না আসে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়বদ্ধতার পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসনও বাড়াতে হবে। ব্যাংক ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স অ্যাক্টও নতুন করে প্রণয়ন করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার জন্য ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রেজল্যুশন বিভাগ গঠন করা হয়েছে। এ আইনের অধীনে ব্যাংক রেজল্যুশনের বিষয়টি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবে। যখনই কোনো ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়বে, মৌলিক কোনো গভর্ন্যান্স ইস্যুতে অবনমন হবে, তখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করবে। অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকও বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হতে হবে। বিশ্বের কোথাও ব্যাংক খাতের জন্য দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। একটি গাড়িতে দুজন চালক থাকতে পারে না। অবশ্যই ব্যাংক খাতের চালক একজন হতে হবে।
সঞ্চিতি ঘাটতি থাকা অবস্থায় কোনো ব্যাংক ডিভিডেন্ড দেয়ার বিধান থাকলেও এতদিন এটি কাগজে-কলমে ছিল। কিন্তু আমরা শতভাগ বাস্তবায়ন করেছি। খেলাপি ঋণ গণনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড চর্চা শুরু হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত কারণে খেলাপি হয়ে যাওয়া উদ্যোক্তাদের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির কাছে সাড়ে বারোশ আবেদন জমা পড়েছে। ২৫০টি আবেদন এরই মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। আমরা প্রকৃত উদ্যোক্তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল।
উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য আমরা নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছি। এরই মধ্যে ‘স্টার্টআপ’দের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে (এমএফএস) ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ন্যানো লোন দেয়া হচ্ছে। আগামীতে এটি ১-২ লাখ টাকাও হতে পারে। দেশে লাইসেন্সকৃত ১১০০ ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান আছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করা হচ্ছে। তবে আমি মনে করি, এত প্রতিষ্ঠান টিকবে না। কারণ প্রতিযোগিতার বাজারে ২৪-২৫ শতাংশ সুদে ভবিষ্যতে গ্রাহকরা আর ঋণ নেবে না। এজন্য ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাপক মাত্রায় প্রযুক্তি আত্মস্ত করতে হবে। এরই মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ২৪ হাজার আউটলেট খোলা হয়ে গেছে। এটি ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখার কাছাকাছি (২৫ হাজার শাখা)। এ বছরই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট মাইক্রো ক্রেডিটকে ছাড়িয়ে যাবে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিচারে এটি একটি ভালো দিক।
ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের বাজার খুবই ছোট। এটি ভারতের চেয়েও দশ ভাগের এক ভাগ। ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর জন্য ক্রেডিট কার্ডের বিস্তৃতি ঘটাতে হবে। ‘ট্যাপ অ্যান্ড গো’ আবারো চালু হয়েছে। এটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। বাংলাদেশে স্মার্টফোনকে আরো সহজলভ্য করতে হবে। এটিকে যদি ৬-৭ হাজার টাকায় নিয়ে আসা যায় এবং মাসিক কিস্তিতে কেনার সুযোগ দেয়া যায়, তাহলে শতভাগ মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছানো সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য হলো সবার হাতে স্মার্টফোন পৌঁছানো। এটি কোনো বিলাসী পণ্য নয়, বরং এটি অত্যাবশ্যকীয়। ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তৃতি ঘটাতে হলে স্মার্টফোন লাগবে, সঙ্গে ইন্টারনেট কানেকশন লাগবে। এজন্য ইন্টারনেটের দাম আরো কমাতে হবে। ইন্টারনেটের গতি ও গণগত মান আরো বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে আমরা এনবিআরের সঙ্গে কাজ করছি। কীভাবে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের দাম আরো কমিয়ে আনা যায়।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে বাংলা কিউআর কোডকে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে এটি নিয়ে তেমন কোনো কাজই করতে পারিনি। অথচ ভুটানোর মতো দেশও সিঙ্গেল নেশন কিউআর কোড সিস্টেম তুমুল জনপ্রিয়। পৃথিবীর সব দেশেই কিউআর কোড ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অনুরোধ পাঠিয়েছি, প্রত্যেকটি ব্যবসার অনুমোদনের সময় কিউআর কোড যেন বাধ্যতামূলক করা হয়। বাংলাদেশকে ক্যাশলেস করতে হলে অবশ্যই কিউআর কোডে যেতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংককে কেবল ক্যাশ ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রতি বছর ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। নতুন টাকা ছাপানো, বিতরণ, সংরক্ষণ, পুরনো টাকা ফেরত নেয়া ও পোড়ানোতে এ অর্থ ব্যয় হয়। আবার ক্যাশলেস না হওয়ার কারণে প্রতি বছর সরকারের রাজস্ব লস হচ্ছে অন্তত দেড় লাখ কোটি টাকা। এসব অপব্যয় ও ক্ষতি কমিয়ে আনতে হলে অবশ্যই ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশের হাউজিং সেক্টরে এখনো বিশাল শূন্যতা আছে। কয়েক মিলিয়ন হাউজিং ইউনিট আমাদের দরকার। এটি বলতেই হবে, গত ৫৫ বছরে কোনো সরকারই সাশ্রয়ী হাউজিং নিশ্চিতে কোনো তৎপরতা দেখায়নি। নগরায়ণ হবেই। গ্রামে মানুষ ফেরত যাবে না। পৃথিবীর কোনো দেশে যায়নি, বাংলাদেশেও যাবে না। শহরেই মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এটি কীভাবে ও স্বল্প খরচে নিশ্চিত করা যায়, সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। বস্তি থেকে মানুষকে কীভাবে কিছুটা স্তস্তির জায়গা দেব, সেটি নিয়ে রাজনীতিবিদদের ভাবতে হবে। ব্যাংকারদেরও ভাবতে হবে। ব্যাংকের কাছে ঋণখেলাপিদের অনেক জমি পড়ে আছে। এগুলোকে কাজে লাগাতে পারলে স্বল্পমূল্যের আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। এজন্য আমরা ব্যাংকার, আবাসন নির্মাতা, রাজউকসহ সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি।
- ড. আহসান এইচ মনসুর: গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
[১০ আগস্ট সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক সংলাপে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের দেয়া বক্তৃতা] সূত্র: বণিক বার্তা

