Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, মার্চ 4, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » জবাবদিহি ও সুশাসনের ঘাটতি আগের মতোই রয়ে গেছে
    মতামত

    জবাবদিহি ও সুশাসনের ঘাটতি আগের মতোই রয়ে গেছে

    মনিরুজ্জামানজানুয়ারি 19, 2026Updated:জানুয়ারি 19, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    শাহদীন মালিক সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ। কয়েক দশক ধরে তিনি রাজনীতি, আইন–আদালত, সংবিধান ও মানবাধিকার নিয়ে নিয়মিত লিখছেন ও মন্তব্য করছেন।

    সম্প্রতি তিনি নির্বাচন, গণভোট, বিচার বিভাগ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন।  দেশের সংবিধান ও আইনি কাঠামো সবসময়ই নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা উচিত। তিনি বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।

    শাহদীন মালিক উল্লেখ করেছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচন সুষ্ঠু রাখার জন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী সংস্কার। তিনি বলেন, আইন ও সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো নাগরিক ও বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে আস্থা জাগাতে সহায়ক হবে। শাহদীন মালিকের অভিমত অনুযায়ী, দেশ যেন আইনগত ও সংবিধানগত নিয়ম মেনে চলতে পারে, সে জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এছাড়া, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভোটারদের অধিকার রক্ষা করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

    প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসের বেশি সময় পর আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে মানুষের উৎসাহ–উদ্দীপনা, নির্বাচনী পরিবেশ কেমন দেখছেন?

    শাহদীন মালিক: নির্বাচন নিয়ে মানুষের উৎসাহ–উদ্দীপনা ও নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক মনে হচ্ছে। আমরা কেউই গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। এবার বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটের কথা শুনেছেন। অতএব উৎসাহ অনেক আছে।

    আমার ধারণা, এবার বিপুলসংখ্যক মানুষ, বিশেষত তরুণেরা ভোট দেবেন। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে নির্বাচনের আগে কিছু মারামারি–হানাহানি হয় না, এ রকম দেশ তো কোথাও নেই। অতএব আমাদের এখানেও কিছু মারামারি–হানাহানি হচ্ছে। তবে এটা আশঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নয়।

     প্রশ্ন: নির্বাচনটি কেমন হবে বলে আপনার মনে হয়?

    শাহদীন মালিক: ভালো হবে। এখন কিছু জিনিস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হবে। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন যখন নির্বাচনগুলো হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারকে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় আমরা দেখতে চাই; নির্বাচনের কোনো ইস্যুতে কোনো পক্ষপাতিত্ব করবে না; সবার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বজায় রাখবে। এখানে হয়তো দু–একটি ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েছে বলে আমার ধারণা, তা সত্ত্বেও নির্বাচনটা সব দিক দিয়েই ভালোই হবে।

     প্রশ্ন:নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেবে। এই সরকারের কার্যক্রম নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

    শাহদীন মালিক: মূল্যায়ন খারাপ। আমি যদি আমাদের সময়ের ভাষায় বলি, একটি পরীক্ষা দিতাম, মূল্যায়ন হতো ফার্স্ট ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন, থার্ড ডিভিশন। আমার মনে হয়, এই সরকারের মূল্যায়ন করতে আমি থার্ড আর সেকেন্ড ডিভিশনের মাঝামাঝি মার্ক দেব। ফার্স্ট ডিভিশন কোনোমতেই দেব না। সেকেন্ড ডিভিশনও দিতে চাই না। ফেল করাব না। অর্থাৎ আমার মূল্যায়ন সেকেন্ড ডিভিশন আর থার্ড ডিভিশনের মাঝামাঝি।

    প্রশ্ন: আপনার কাজের ক্ষেত্র নিয়ে যদি একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করি—ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকার কেমন করল, তাহলে আপনার উত্তর কী হবে?

    শাহদীন মালিক: যদি আদালতকেন্দ্রিক খুব সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখি, তাহলে বলতে হবে, আদালতে দুটি বড় কাজ হয়েছে। প্রথম কাজটা হলো বিচার বিভাগের পৃথক্‌করণে সেক্রেটারিয়েটের কাজটা শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তিন মাস আগে যে বিচারপতিদের নেওয়া হয়েছে, তা আইনানুযায়ী নেওয়া হয়েছে। এই দুটি ভালো কাজ হয়েছে। এ ছাড়া এই সরকার শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার অনেকগুলো ভীষণ ত্রুটিপূর্ণ।

    বিচারব্যবস্থা বলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বুঝতে হবে। আমরা আইনজীবীরা বলি—আমাদের স্বার্থ কতটুকু রক্ষা হলো, বিচারকেরা তাঁদের সুবিধা কতটুকু পেলেন, সেটি নিয়ে চিন্তা করে। আমাদের আইনজীবীদের জন্য মামলা বেড়েছে; বিচারপতি নিয়োগের ব্যবস্থা হয়েছে; পৃথক সচিবালয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যদিও এটা এক দিনে হবে না, সময়সাপেক্ষ ব্যাপার; এগুলো ভালো হয়েছে।

    বিচারব্যবস্থা তো দাঁড়িয়ে আছে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার করার জন্য, কিন্তু আমরা বিচারপ্রার্থীদের দুঃখ–দুর্দশার কথা চিন্তা করি না। বেশির ভাগ বিচারপ্রার্থী দরিদ্র অথবা নিম্নবিত্ত। তাঁদের সহায়তা করার জন্য খুব একটা কাজ করা হয়নি। আইনি সহায়তা কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটানোর কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কিন্তু বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব হয়নি।

     প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচার বিভাগ কি আগের সময়ের চেয়ে ভিন্ন কিছু করেছে?

    শাহদীন মালিক: খুব বেশি ভিন্নতর কিছু করেনি। এর প্রধান কারণ হলো, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিনের মাথায় আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি ছাড়া বাকি সবাইকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছিল। এটা একটা সাংঘাতিক নেতিবাচক উদাহরণ। তর্কের খাতিরে বলছি পরের সরকার এসে যদি আবার আগের সরকারের মতোই আপিল বিভাগের সবাইকে সরিয়ে দেয়, তখন তো আমাদেরও কিছু বলার থাকবে না; অতীতে সরকার বদল হয়েছে, আপিল বিভাগে বদল হয়েছে। এটা মোটেও চিন্তাভাবনা করে করা হয়নি।

    যাঁরা বিচারকের আসনে বসেছেন, তাঁদের সামনে তো এই উদাহরণটা রয়ে গেছে যে সরকার আমাদের পছন্দ না করলে আমাদের বের করে দিতে পারে; এটা মবের মাধ্যমে হোক, চাপ সৃষ্টি করে হোক; অনেক বারই তো হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের কথা বলা হয়েছে। এই জিনিসগুলো বিচার বিভাগকে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে। আমরা যে একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থার কথা বলি, যেখানে একজন বিচারপতি অন্য কিছু চিন্তা না করে আইন ও ন্যায়বিচারের কথা চিন্তা করে বিচার করবেন, সেটির প্রতি একটি বড় আঘাত হানা হয়েছে।

    গণ–অভ্যুত্থানের পরবর্তী একটি প্রতিক্রিয়া থাকে এবং আগের সরকারের সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের সবাইকে হটাতে হবে, এর সঙ্গে কোনো দ্বিমত নেই; কিন্তু এই হটাতে গিয়ে বিচার বিভাগকে বাইরে রাখা উচিত ছিল। যে বিচারপতিরা পক্ষপাতিত্ব করেছেন, গত সরকারের আমলে স্বেচ্ছাচারিতাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, তাঁদের আস্তে আস্তে এক–দুই–তিন মাসের ছুটি দিয়ে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের সরানো যেত। জিনিসটা তো ওইভাবে হয়নি। ফলে আমার মনে হয় যে বিচার বিভাগেও কিছুটা ভীতি তৈরি হয়েছে।

     প্রশ্ন: গত বছর জুলাই–আগস্টে গণ–অভ্যুত্থানের সময় হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে শত শত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে করা হতো গায়েবি মামলা। এবার দেখা গেল ঢালাও মামলা বা ইচ্ছেমতো আসামি করার প্রবণতা। এসব মামলার তদন্ত এগোচ্ছে না। অনেকেই মাসের পর মাস জামিন পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

    শাহদীন মালিক: এসব ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন হয়নি মানে আগে স্বৈরাচার সরকারের আমলে কোনো একটা ঘটনা, যেমন পটকা বা ককটেল ফাটানোর অভিযোগে ওই এলাকার আশপাশের বিএনপির ২০০ থেকে ৪০০ নেতা–কর্মীকে মামলায় আসামি করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতো। এ আমলেও একই রকম ঘটনা ঘটেছে। শুধু বিএনপির জায়গায় অন্য দলের লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    আইনি প্রক্রিয়ায় একজন লোকের বিরুদ্ধে মামলা নিতে হলে, গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশকে যৌক্তিকভাবে নিশ্চিত হতে হবে যে ওই লোকের সম্পৃক্ততা আছে। এখন একজন খুন হয়েছেন, সেখানে যদি আসামি হিসেবে ২৫০ জন লোকের নাম দেন, পুলিশের চিন্তা করা উচিত ছিল, ২৫০ জন মিলে একজনকে হত্যা করার ঘটনাটা সত্য কি না? কিন্তু পুলিশ আগের আমলে যে গ্রেপ্তার–বাণিজ্য করত, ওই গ্রেপ্তার–বাণিজ্য এখনো বহাল আছে এবং সরকার এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধিতে একটি ধারা সংযোজন করা হলেও, সেটি কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    সরকারের তরফ থেকে মাঝেমধ্যে বলা হয়েছে, মানুষ এসে এজাহার করলে আমরা কী করব? কেউ যখন একটি অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে যান, সেই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা আছে কি না, সেটি যাচাই–বাছাই করার ক্ষমতা পুলিশের সব সময়ই আছে। তবে একটি মামলায় যদি দেড় থেকে দুই শ জন গ্রেপ্তার হয়, তাহলে পুলিশ যেমন গ্রেপ্তার–বাণিজ্য করতে পারে, তেমনি আমরা আইনজীবীরাও এ থেকে লাভবান হচ্ছি। এ রকম চলতে থাকলে আমরা জামিনের অনেক মামলা পাব, এটা এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি সরকারের রোধ করার উপায় ছিল; কিন্তু সরকার এ পথে কেন যায়নি, সেটি আমার বোধগম্য নয়।

    প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আরেকটি বহুল আলোচিত বিষয় হলো মব। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এত দিন পরেও এটা বন্ধ হচ্ছে না। এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচিত ছাত্র সংসদের নেতারাও শিক্ষকদের ধরে ধরে হেনস্তা করছেন। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

    শাহদীন মালিক: এটা অবশ্যই সাংঘাতিকভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষকও তো মানুষ, তিনিও ভুল করতে পারেন; কিন্তু তাঁর সঙ্গে যদি এ ধরনের আচরণ করা হয়, তাহলে কিন্তু শিক্ষকদের ওপর থেকে শ্রদ্ধা চলে যাবে এবং সেটি চলে গেলে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। শিক্ষকেরও ভুল হতে পারে, ছাত্রদের ক্ষোভ থাকতে পারে, যথার্থভাবে তারা বিক্ষুব্ধ হতে পারে; কিন্তু এর সমাধান এটা নয় যে শিক্ষককে লাঞ্ছনা করতে হবে। হুজুগের বশবর্তী হয়ে ভবিষ্যতে এর পরিণতি কী হবে, সেটা চিন্তাভাবনা না করে একটি অপরিপক্ব জাতি হিসেবে আমরা এই কাজগুলো করছি। এর খেসারত আমাদের অনেক দিন দিতে হবে।

    প্রশ্ন: আবার একটু নির্বাচন প্রসঙ্গে আসি। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে এ রকম দুটি নির্বাচন কখনো একসঙ্গে হয়নি। সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে দেশের মানুষ কমবেশি জানে ও বোঝে। আপনি কি মনে করেন, গণভোটে মানুষ বুঝেশুনে ভোট দিতে পারবে?

    শাহদীন মালিক: গণভোটের প্রশ্নগুলো জটিল; চারটি প্রশ্ন আর চারটি প্রশ্নের সঙ্গে আরও অনেকগুলো লেজুড়। সংবিধানের জটিলতম বিষয়ে গণভোট করা হচ্ছে। সংবিধানের এই জটিল ব্যাপারগুলো জেলা আদালতের একজন আইনজীবীও হয়তো বোঝেন না। এই জটিলতম সাংবিধানিক প্রশ্নে গণভোটে জনগণের মতামত চাওয়া হবে। এটা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝার কোনো সম্ভাবনা নেই।

    প্রশ্ন: গণভোটে মোট ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রস্তাবের কোনোটিতে একজন মানুষ একমত হতে পারেন, আবার কোনোটিতে ভিন্নমত জানাতে পারেন। কিন্তু একজন ভোটারকে সব বিষয়ে একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলতে বাধ্য করা কতটা যৌক্তিক?

    শাহদীন মালিক: সাধারণত দুনিয়াব্যাপী গণভোটের নিয়ম হলো একটি ব্যাপারে প্রথমে সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কী পরিবর্তন চায়। কথার কথা, কোনো দেশে পাঁচটা প্রদেশের জায়গায় আটটা প্রদেশ হবে, সেটি সংসদে পাস হলো। এটা যদি জাতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তখন সেটি গণভোটে যাবে। এ ক্ষেত্রে গণভোটের প্রশ্ন হবে—আমরা মনে করছি পাঁচটির জায়গায় আটটি প্রদেশ হবে, আপনারা মানেন কি না?

    গণভোটের প্রচলিত এই দুই ধাপ অর্থাৎ আগে সংসদে পাস হবে, তারপর গণভোটে যাবে—এটা না করে এভাবে জটিল প্রশ্নে সরাসরি গণভোটে যাওয়াটা আইনিভাবে অবাস্তব। দ্বিতীয় কথা হলো এই গণভোটের সিদ্ধান্ত সংসদ মানতে কতটা বাধ্য? সংসদের সার্বভৌমত্বের মানে হলো একটি সংসদের ওপর কেউ কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না। তাহলে ১৮০ কার্যদিবস সময় দিয়ে সংসদকে গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংস্কার সম্পন্ন করার যে কথা বলা হয়েছে, সেটি সাংবিধানিক ও আইনিভাবে কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    প্রশ্ন:অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে প্রচার–প্রচারণা চালাচ্ছে। এ সরকার কি কোনো পক্ষ হয়ে গণভোটের প্রচার–প্রচারণা চালাতে পারে?

    শাহদীন মালিক: অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য প্রচার–প্রচারণা চালাতে পারে না। এটা করে সরকার আরেকটি ভুল করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো কাজ করবে। নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করবে বা সব পক্ষের জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করবে।

    হয়তো তর্কের খাতিরে বলা যেতে পারে, সরকার সরাসরি কোনো আইন লঙ্ঘন করেনি। কিন্তু নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অনেক সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারী যুক্ত থাকবেন, স্কুল–কলেজের শিক্ষকেরাও যুক্ত থাকবেন। তাঁদের মাধ্যমেই তো প্রচার–প্রচারণা চালানো হচ্ছে; ভোটের ব্যাপারে সরকার ইতিমধ্যে পক্ষ নিয়ে নিয়েছে। এটা ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।

     প্রশ্ন: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে কী হবে, আর ‘না’ জয়ী হলে কী হবে?

    শাহদীন মালিক: ‘না’ জয়ী হলে তো সংস্কারের সব পরিকল্পনা বাদ হয়ে গেল। অন্যদিকে ‘হ্যাঁ’ কত শতাংশ ভোটে জয়ী হবে, সেটির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। যদি ফলাফলটা এমন হয় যে সংসদ নির্বাচনে ৬০ শতাংশ লোক ভোট দিলেন, আর গণভোটে ২০ শতাংশ লোক অংশগ্রহণ করলেন, তাহলে কিন্তু এই গণভোটের নৈতিক যে বাধ্যবাধকতা, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে।

     প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকার দাবি করছে, তারা সংস্কারের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার–প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকার অনেক কিছু সংস্কার করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি টিআইবি বলেছে যে সংস্কার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। আপনি কী বলবেন?

    শাহদীন মালিক: আমি টিআইবির মূল্যায়নের সঙ্গে একমত। ব্যাংকিং খাতে কিছু সংস্কার হয়েছে; বিচার বিভাগে দু–একটা সংস্কার হয়েছে; কিন্তু আমলাতন্ত্র বা প্রশাসনে তেমন কোনো সংস্কারমূলক কাজ হয়নি। এর ফলে দেশে দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহি ও সুশাসনের যে অভাব ছিল, সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

    প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারবে?

    শাহদীন মালিক: এখন সরকারের কাছ থেকে জনসাধারণের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। আমার মনে হয়, প্রধান যে দলগুলো আছে, কমবেশি হলেও সবার এই উপলব্ধিটা হয়েছে। অতএব জনগণের চাওয়া–পাওয়াকে তোয়াক্কা না করে নিজের স্বার্থে দেশ চালাবে—এটা বোধ হয় তারা পারবে না। মোটামুটিভাবে জনগণের প্রত্যাশার কাছাকাছি থেকেই তাদের কাজ করতে হবে।

    সূত্র: প্রথম আলো

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    খামেনির পর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কে এই লারিজানি: বাস্তববাদী থেকে প্রতিশোধের কণ্ঠ

    মার্চ 3, 2026
    আন্তর্জাতিক

    যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদে কেন পা দিল ইরানিদের একাংশ?

    মার্চ 3, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরানের বিরুদ্ধে কত খরচ করে—কী কী অস্ত্র ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র?

    মার্চ 3, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.