Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, মার্চ 15, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » আমলাতান্ত্রিক জটিলতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দিচ্ছে
    মতামত

    আমলাতান্ত্রিক জটিলতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দিচ্ছে

    মনিরুজ্জামানমার্চ 15, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    আজম জে চৌধুরী
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজম জে চৌধুরী দেশের পরিচিত ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বদের একজন। ব্যবসা ও শিল্পের নানা খাতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় তিনি। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রাইম ব্যাংকের মালিকানার সঙ্গেও যুক্ত আছেন এবং অতীতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

    শুধু একটি বা দুটি খাতেই সীমাবদ্ধ নন আজম জে চৌধুরী। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, জাহাজ চলাচল, আবাসন, ট্রেডিং, চা-বাগান ও এফএমসিজিসহ বিভিন্ন খাতে তার ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে বিশেষ ধারণা দিয়েছে।

    সম্প্রতি তিনি দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং ব্যাংকিং খাতের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন। আলোচনায় উঠে এসেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় এবং ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিভঙ্গি। দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে তার এই মন্তব্য ও বিশ্লেষণ ব্যবসায়ী মহলসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    প্রশ্ন:  দেশে যে জ্বালানিসংকট চলছে, সেটিকে কীভাবে দেখছেন। এ সংকট কতটা যৌক্তিক ও আগামী দিনে কতটা প্রকট হতে পারে বলে মনে করছেন।

    আজম জে চৌধুরী: কয়েক দিন আগে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সরকারের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেখানে তিনি আমাদের কাছে সংকটের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছি, আমাদের দেশে কোনো একটা বিষয়ে সংকট দেখা দিলে সেটি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা ধরনের কথাবার্তা বলে আরও বেশি জটিল করে তোলা হয়। দেশে জ্বালানির দুটি ভাগ আছে, একটি শিল্পের জ্বালানি, আরেকটি সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য জ্বালানি। সেখানে আমরা দেখি বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের ডিজেলের চাহিদা খুব বেশি নয়।

    এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে যে অকটেন তৈরি হয়, সেটি দিয়ে আমরা আমাদের চাহিদা পূরণ করতে পারি। খুব বেশি আমদানি করতে হয় না। হয়তো দেশে তৈরি অকটেনের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। কিন্তু চাহিদা মেটানোর মতো অকটেন আমাদের দেশেই পাওয়া যায়। তাই অকটেন নিয়ে আমাদের খুব বেশি দুশ্চিন্তার আমি কিছু দেখি না। কিন্তু আমরা দেখছি অকটেনের জন্যও মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। ডিজেলের ক্ষেত্রে যদি বলি সেখানে সরবরাহ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে। কিন্তু আমরা জানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের তেল কেনার চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী তেল পাওয়া যাবে। হয়তো কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বা দাম বেশি পড়তে পারে।

    তাই সংকটটা তেল না পাওয়া নিয়ে নয়, সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে কি না সেটি। একই পরিস্থিতি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ক্ষেত্রেও। তাই আমি তেল পাওয়া নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ দেখি না। সময়মতো তেল দেশে আনা যাবে কি না সেটি নিয়ে হয়তো কিছুটা দুর্ভাবনা আছে। এ জন্য আমাদের কিছুটা সঞ্চয়ী হতে হবে। তার জন্য তেল নেই তেল নেই, হাহাকারের খুব বড় কোনো কারণ আছে বলে আমার মনে হয় না।

    প্রশ্ন:  আপনি বলছেন তেল নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কার কিছু নেই। কিন্তু পেট্রলপাম্পের দিকে তাকালে তো পরিস্থিতি ভিন্ন মনে হচ্ছে।

    আজম জে চৌধুরী: হ্যাঁ, এটি সত্য। মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আমি মনে করি এটি অতিকথন ও অতি প্রচারের ফল। মধ্যপ্রাচ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি আমাদের কারও তৈরি নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবাইকে সংযমী হতে হবে। সবাই মিলেই ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। আতঙ্কিত হয়ে ওভার বাই না করে এখন উচিত সবার জ্বালানি সাশ্রয়ী সবার মনোযোগী হওয়া; কিন্তু ঘটছে উল্টোটি। এলপিজি নিয়ে আমি বলতে পারি, দেশে যে মজুত আছে তাতে স্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী এপ্রিল পর্যন্ত কোনো সংকট হবে না।

    মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া এলপিজি আমদানির বিকল্প অনেক উৎস আছে। এলপিজি আমদানি এখন আর মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর নেই। একইভাবে অন্যান্য জ্বালানিরও বিকল্প উৎস রয়েছে। হয়তো দামের হেরফের হতে পারে। এখন পর্যন্ত আমরা সেসব উৎসের দিকে যাচ্ছি না। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু কিছু জাহাজ আসছে। যদি একেবারে সেখান থেকে জাহাজ আসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, তাহলে নিশ্চয় বিকল্প উৎস থেকে আমরা তেল সংগ্রহ করতে পারব।

    প্রশ্ন: মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে তাতে দেশে জ্বালানির কোনো সংকটের আশঙ্কা দেখেন কি?

    আজম জে চৌধুরী: জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে আমি কোনো সংকটের শঙ্কা দেখি না। সংকট যেটা হতে পারে সেটা দামের সংকট। দীর্ঘদিন এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ততার অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট খুব বেশি দীর্ঘায়িত হবে না। কারণ, এটি দীর্ঘায়িত হলে শুধু তো আমরা না, কমবেশি বিশ্বের প্রায় সব দেশই সমস্যায় পড়বে। তাই সবার সম্মিলিত চেষ্টায় সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলেই আমার বিশ্বাস। আমাদের সরকার শুরু থেকে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এটি একটি ভালো দিক। তাই জ্বালানি ব্যবহারে আমরা শুরু থেকে সাশ্রয়ী হওয়ার পথে রয়েছি। এই উদ্যোগ আমাদের বড় ধরনের সংকট থেকে এড়াতে সহায়তা করবে বলে আমার বিশ্বাস। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমাদের ভবিষ্যতের এ ধরনের সংকট মোকাবিলার জরুরি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

    প্রশ্ন:  ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য করণীয় কী হওয়া উচিত?

    আজম জে চৌধুরী: বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বৈশ্বিক কারণে যেকোনো সময় এ ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। অতীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকট থেকে সেটি আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। জ্বালানি সংরক্ষণে আমাদের পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধা নেই। বর্তমানে আমাদের জ্বালানি সংরক্ষণের যে অবকাঠামো সুবিধা আছে, তা দিয়ে ৩০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ জ্বালানি মজুত রাখা যায়। এখনকার পরিবর্তিত পরিস্থিতি সেই সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে হবে।

    অন্ততপক্ষে তিন-চার মাসের মজুত যাতে রাখা যায়, সেই ধরনের অবকাঠামো সুবিধা গড়ে তোলা দরকার। এলএনজি আমদানির জন্য আমাদের কোনো ল্যান্ডবেইস টার্মিনাল নেই। বেসরকারি উদ্যোগে অনেকে জ্বালানি খাতে অবকাঠামো সুবিধা গড়ে তুলতে আগ্রহী। হয় সরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো গড়ে তোলা হোক, নয়তো বেসরকারি খাতকে অবকাঠামো গড়ে তোলার অনুমোদন দেওয়া হোক। যেটিই করা হোক, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, এসব অবকাঠামো রাতারাতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

    প্রশ্ন:  তেল-বাণিজ্য থেকে এবার একটু দেশের অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাই। দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ কেমন?

    আজম জে চৌধুরী: প্রথমে আমি বলতে চাই, কেন দেশে বিনিয়োগ আসছে না। বিনিয়োগের প্রথম শর্ত হচ্ছে একটি দেশের স্থিতিশীলতা। অন্তর্বর্তীকালীন কোনো সরকারের সময়ই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেউই বিনিয়োগে আগ্রহী হন না। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগে একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতি ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা চান। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগের জন্য বিদেশিদের কাছে এমন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে এ দেশের মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ হোক, এটা চান না এমন মানুষ খুব কম। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন কিছু বিনিয়োগ আনতে হয়, যেটি দেশে আগে হয়নি, এ দেশের ব্যবসায়ী যেটি করতে পারেননি। যেই স্থাপনা এ দেশের মানুষই পরিচালনা করতে পারেন, সেটি বিদেশিদের দেওয়ার কোনো মানে হয় না। এ কারণে বন্দরে বিদেশি বিনিয়োগ ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার বাধার মুখে পড়েছিল। দেশের বিনিয়োগ, অর্থনীতি ও অগ্রাধিকার এসব নিয়ে বিগত সরকার বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করেনি। অথচ এ দেশের অর্থনীতির বড় অংশই বেসরকারি খাতনির্ভর।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিডা কিছু ভালো কাজ করেছে, এটি সত্য। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য সার্বিক যে পরিবেশ লাগে, সেটি অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিনিয়োগের অনুকূলে ছিল না। নতুন সরকার মাত্রই দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ বিনিয়োগের বাধাগুলো দূর করা।

    প্রশ্ন:  ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি ফেরাতে নতুন সরকারের অন্যতম করণীয় কী বলে মনে করেন?

    আজম জে চৌধুরী: আমরা যদি দেখি আর্থিক খাতে এখন বড় ঋণগ্রহীতা সরকার। সরকার নিজেই আর্থিক সংকটে রয়েছে। রাজস্ব আয় দিয়ে খরচ চালাতে পারছে না। তাই আর্থিক খাত থেকে বেশি ঋণ করছে। সরকারই যদি আর্থিক খাত থেকে বেশি টাকা নিতে থাকে, তাহলে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের জন্য সহনশীল সুদে ঋণ পাবেন কোথায় থেকে। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তো কেউ বিনিয়োগ করবে না। তাই সরকারের উচিত হবে আর্থিক খাতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা।

    আমরা দেখছি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের আমদানি বাণিজ্যকে সীমিত করে রাখা হয়েছে। অথচ সরকারের রাজস্ব আদায়ের বড় একটি খাত এটি। বিনিয়োগ থেকে শুরু করে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে যেকোনোভাবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে হবে। এ ছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। এ জন্য বিনিয়োগ করতে গিয়ে বছরের পর বছর সরকারের এই দপ্তর থেকে ওই দপ্তরে ঘুরতে হয় বিনিয়োগকারীদের। আমাদের আমলাতন্ত্র যেভাবে পরিচালিত হয়, সেটি মোটেই বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতবান্ধব নয়। এই আমলাতন্ত্র উন্নয়নে সহায়তার বদলে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

    প্রশ্ন: আপনি তো আর্থিক খাতের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। বেসরকারি একটি ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছেন। এই খাত নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

    আজম জে চৌধুরী: এই খাত নিয়ে আমার প্রথম মূল্যায়ন হচ্ছে, এতগুলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ দেশে কোনোভাবেই দরকার ছিল না। আমার হিসাবে এ দেশে ভালো মানের ২০-২৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট। সেখানে এখন ৬০টির মতো ব্যাংক। এর বাইরে আরও অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে এই খাতে একধরনের বিশৃঙ্খলা হয়েছে। এরপর আমরা দেখলাম শেয়ারবাজারে ধস হলো। তাতে পুঁজিবাজার পুঁজিহীন হয়ে পড়ল। সেই সংকটে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধসে পড়েছে।

    এ ছাড়া আর্থিক খাতে দীর্ঘ সময় ধরে সুশাসনের বড় ঘাটতি দেখলাম। ব্যাংক থেকে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিপুল অর্থ নিয়ে গেছে। দেশে সরকার ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক ছিল, তারপরও এসব ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে হলে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন দরকার। আওয়ামী লীগ সরকার সেটি করেনি, অন্তর্বর্তী সরকারও সেটি করল না। আইনটি হলে তাতে ব্যাংক তদারকি ব্যবস্থা আরও উন্নত হতো। আমি মনে করি ব্যাংক খাতের সুশাসনকে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সে জন্য যা যা করণীয়, সেসব উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

    প্রশ্ন: ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আপনি দুর্নীতি নিয়েও নানা কথা বলেছেন প্রকাশ্যে। দুর্নীতি ব্যবসা-বাণিজ্যকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করেন?

    আজম জে চৌধুরী: ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতি ধাপে ধাপে ব্যবসায়ীদের দুর্নীতির মুখোমুখি হতে হয়। জমি কেনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি দপ্তরে নানা কাজে নানা নামে টাকা দিতে হয়। অর্থাৎ কেউ কোনো সেবা নিতে গেলে সেই সেবা বিলম্বিত করে বা আটকে রেখে তার বিনিময়ে অর্থ আদায় করা হয়। এভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য কেন, নাগরিক হিসেবে সেবা পাওয়াও অনেকের জন্য কষ্টকর। আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, দুর্নীতি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে এখন দুর্নীতি বন্ধ করা কঠিন। দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে সরকারি সব ধরনের সেবা সহজ ও ডিজিটাল করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রকে ভিত্তি ধরে অনেক সেবা সহজ করা সম্ভব।

    প্রশ্ন:  নতুন সরকার এসেছে। এখন আপনারা নতুন কোনো বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন কি?

    আজম জে চৌধুরী: আমার এখন বয়স হয়ে গেছে। নতুন করে খুব বেশি কিছু করার বাস্তবতা আমার নেই। সন্তানেরা ব্যবসার হাল ধরেছে, তারাই ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে আমার ইচ্ছে দেশের জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটা এনার্জি টার্মিনাল করা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিতে এই টার্মিনাল করার একটি প্রস্তাব কয়েক বছর আগে সরকারের কাছে জমা দিয়েছি। সেটির অনুমোদন পেলে সেখানে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। জ্বালানি খাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এক্সন মবিল এই বিনিয়োগে আমাদের সঙ্গে আছে। এটি করে যেতে পারলে ব্যবসায়ী হিসেবে আমার আর কিছু বড় স্বপ্ন নেই। আমি মনে করি এটি করতে পারলে দেশের জ্বালানি খাত আগামী দিনে যেকোনো বড় সংকট মোকাবিলা করতে পারবে।

    • আজম জে চৌধুরী: চেয়ারম্যান, বেসরকারি ইস্ট কোস্ট গ্রুপ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস।

    সূত্র: প্রথম আলো 

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    বাজারের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

    মার্চ 14, 2026
    সম্পাদকীয়

    জ্বালানি সংকট: পরিকল্পনার ঘাটতি নাকি সম্পদের অভাব?

    মার্চ 14, 2026
    মতামত

    অতি উৎপাদন হচ্ছে কি না, তা বলা সম্ভব নয়

    মার্চ 14, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.