দেশজুড়ে মসজিদের ইমামদের জীবনমান উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক সক্ষমতা বাড়াতে ১০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি মাসের ২৮ জানুয়ারির মধ্যেই এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব চূড়ান্ত করে জমা দেওয়া হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। গণভোট সামনে রেখে ইমামদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই ধর্ম মন্ত্রণালয় এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, মসজিদের ইমামরা কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; তারা সমাজে নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং মানবিক চর্চার অন্যতম প্রধান বাহক। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাদের জীবনমান, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কাঠামোগত কোনো উদ্যোগ ছিল না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার বড় পরিসরের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ইমামদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
ভাষণে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের কথাও তুলে ধরেন ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে সংস্কারের পথে এগিয়ে নিতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আসন্ন গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ইমাম ও সাধারণ জনগণের প্রতি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড. খালিদ হোসেন অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব গুজবে কান না দিয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, ১২ জানুয়ারির ভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গণভোটের ফল দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। তাই নাগরিকদের দায়িত্বশীলভাবে এতে অংশ নেওয়া জরুরি।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, অতীতে গুম, হত্যা এবং রাজনৈতিক নৈরাজ্যের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের ফল। তার মতে, কার্যকর জবাবদিহিতা ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও কার্যকর করতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে গণভোটে ইতিবাচক রায় প্রয়োজন। এতে দুর্নীতি কমবে এবং সুশাসনের পথ সুগম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয় ইমাম সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক ইমাম অংশ নেন। সরকারের প্রস্তাবিত কল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং গণভোটের তাৎপর্য নিয়ে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইমামদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা আরও সুদৃঢ় হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।

