দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহজুড়ে সূচকের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বেশিরভাগ খাতের শেয়ারের দাম কমায় সামগ্রিকভাবে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যদিও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ০.৭০ শতাংশ। পয়েন্টের হিসাবে সূচক ৩৭.৬৯ কমে সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ৫,৩১৬ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫,৩৫৪ পয়েন্ট। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক ৩১.০৭ পয়েন্ট কমে ২,০২০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ৬.৯০ পয়েন্ট হারিয়ে ১,০৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৩৯১টি সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৮১টির দর বেড়েছে, ১৭৩টির কমেছে এবং ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। তবে ২২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি। সূচকের পতনে বড় ভূমিকা রেখেছে কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ার, যেমন ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, রবি এবং গ্রামীণফোন।
লেনদেনের চিত্রে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪৮ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১১.৪৩ শতাংশ বেশি। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে। ফলে ক্রয় আগ্রহ থাকলেও অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে স্থিতিশীলতা আসেনি।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাত লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে ছিল, মোট লেনদেনের ১৩.৩০ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত (১২.৭৫ শতাংশ) এবং প্রকৌশল খাত (১২.৫৫ শতাংশ)। এছাড়া বস্ত্র খাত ৮.৪০ শতাংশ এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাত ৭.৫০ শতাংশ লেনদেন দখল করে।
রিটার্নের হিসাবে অধিকাংশ খাতই নেতিবাচক ছিল। টেলিযোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৩.১৪ শতাংশ পতন দেখা গেছে। ব্যাংক খাতে ১.৯২ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ১.৭০ শতাংশ দরপতন হয়েছে। বিপরীতে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১০.৫১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে, যা ছিল সর্বোচ্চ। এছাড়া সাধারণ বীমা ও সিরামিক খাতেও কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক ০.৭৭ শতাংশ কমে ১৪,৯১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সিএসসিএক্স সূচক ০.৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯,১০২ পয়েন্টে নেমেছে। সিএসইতে সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম। এখানে ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৭টির দর বেড়েছে, ৮৮টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। সব মিলিয়ে, বাজারে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাবের কারণে সূচকে চাপ অব্যাহত রয়েছে।

