নতুন সরকার গঠনের পর দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, নীতিগত সংস্কার ও কার্যকর তদারকি বাড়লে বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো এম হেলাল আহম্মেদ খান জানিয়েছেন, সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে ওঠেন। তাদের ধারণা, পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নীতিমালা আরও শক্তিশালী করা হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা বাড়বে।
বিশেষ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। এর ফলে বাজারে অনিয়ম, যেমন ইনসাইডার ট্রেডিং ও কৃত্রিমভাবে দাম নিয়ন্ত্রণের মতো কর্মকাণ্ড কমে আসতে পারে। এতে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও নিরাপদ ও আস্থাশীল হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দক্ষ তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও পুরোনো অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
এছাড়া শুধু পুঁজিবাজার নয়, দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অতীতে যারা বাজারে কারসাজি করেছে বা বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই ইতিবাচক মনোভাব অব্যাহত থাকলে বাজারে তারল্য বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও নতুন করে আস্থা ফিরে আসবে এবং তারা আবার বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

