পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানো ও স্থিতিশীলতা আনতে মিউচুয়াল ফান্ডে কর সুবিধার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিনিয়োগসীমা বাতিলের দাবি উঠেছে। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) বলছে, সীমা তুলে দিলে খুচরা ও প্রাতিষ্ঠানিক—দুই ধরনের বিনিয়োগই বাড়বে।
আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে কর রেয়াত পেতে মিউচুয়াল ফান্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের সীমা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাই যেকোনো পরিমাণ বিনিয়োগকে কর সুবিধার আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।ডিবিএ মনে করে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল প্রবাহ বাড়বে এবং পুঁজিবাজার আরও স্থিতিশীল হবে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর বর্তমানে একাধিক ধাপে কর দিতে হয়। উৎসে কর কাটার পরও আবার কর দিতে হওয়ায় মোট করহার অনেক ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়। এ কারণে অনেক বিনিয়োগকারী লভ্যাংশভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে সরে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি কাটাতে উৎসে কাটা করকেই চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজে ভিন্ন ভিন্ন করহার থাকায় বিনিয়োগে অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে ডিবিএ। সব তালিকাভুক্ত শেয়ার ও ফান্ড ইউনিটের জন্য একই করহার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর করের চাপ কমানোর বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানে শেয়ার লেনদেনের টার্নওভারের ওপর যে উৎসে কর (টিডিএস) কাটা হয়, সেটিকে ন্যূনতম কর হিসেবে ধরা হয়। ফলে লোকসান হলেও কর দিতে হয়। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করে টিডিএসকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনরায় বাজারে ফিরিয়ে আনতে কিছু কর ছাড়ের প্রস্তাবও দিয়েছে ডিবিএ। নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্টধারীদের জন্য কর সুবিধা, সুদ মওকুফ, নগদ লভ্যাংশ ও মূলধনি মুনাফার ওপর কর ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাজারে বড় কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘ডিমড-টু-বি লিস্টেড’ কাঠামো চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্দিষ্ট মূলধন, টার্নওভার বা ব্যাংক ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা যেতে পারে। একই সঙ্গে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিবিএ। টানা তিন বছর বার্ষিক সাধারণ সভা না করা বা লভ্যাংশ ঘোষণা না করা কোম্পানির কর সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বাজেট-পূর্ব আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বিমা খাতের নানা দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই খাতে সুশাসন ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে, যা গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার মতে, অনেক বিমা কোম্পানি গ্রাহকদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনকি মেয়াদ শেষে পাওনা অর্থ সময়মতো না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কর্মীদের অবসরকালীন সুবিধা না দেওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
বিমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুশাসন নিশ্চিত না হলে এই খাতের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।

