বিদায়ী সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। প্রধান সূচক কমার পাশাপাশি বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে, যদিও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,২২০ পয়েন্টে। এর আগে সূচকটি ছিল ৫,৩১৬ পয়েন্টে। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ৩৯ পয়েন্টের বেশি, যা নেমে এসেছে ১,৯৮০ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ১৪ পয়েন্ট কমে ১,০৬০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৭২টির দাম বাড়লেও ২০৬টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ১২টির দাম এবং ২২টির কোনো লেনদেন হয়নি। সূচকের পতনে বড় ভূমিকা রেখেছে কয়েকটি শীর্ষ কোম্পানির শেয়ার, যেমন—ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। তবে সূচক কমলেও লেনদেনে গতি ছিল। সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৬৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর ফলে সপ্তাহের শুরুতেই বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। মাঝেমধ্যে কিছুটা দরপতনের সুযোগে ক্রয়চাপ তৈরি হলেও তা স্থায়ী ইতিবাচক ধারায় রূপ নেয়নি।
খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ওষুধ ও রসায়ন খাত সবচেয়ে বেশি লেনদেন আকর্ষণ করেছে, মোট লেনদেনের ১৬.৬ শতাংশ। এরপর প্রকৌশল খাতের অংশ ১২.৪ শতাংশ। বস্ত্র ও ব্যাংক খাত প্রায় সমান অংশ নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ বীমা খাতের অংশ ছিল ৭.৩ শতাংশ।
রিটার্নের দিক থেকে বেশিরভাগ খাতেই নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩.৯ শতাংশ দরপতন হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সিমেন্ট খাতেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। পাশাপাশি ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎসহ আরও কয়েকটি খাতে নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। বিপরীতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া সাধারণ বীমা ও সেবা-আবাসন খাতেও সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধারা লক্ষ্য করা গেছে। সিএএসপিআই সূচক প্রায় ১.৪৩ শতাংশ কমে ১৪,৭০১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসসিএক্স সূচকও কমে দাঁড়িয়েছে ৮,৯৮৩ পয়েন্টে। সিএসইতে সপ্তাহে মোট ১৮৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এখানে ৩০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৭টির দর বেড়েছে, ১৫২টির কমেছে এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

