দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের প্রভাবে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এতে গত এক সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সময়ে সূচকগুলোও বড় পতনের মুখে পড়ে, যদিও দৈনিক গড় লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।
সপ্তাহজুড়ে বাজারে ক্রমাগত ওঠানামা দেখা যায়। প্রথম তিন কার্যদিবসে টানা পতন ঘটে। এরপর একদিন বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ কার্যদিবসে আবারও বড় ধরনের দরপতন হয়। ফলে পুরো সপ্তাহে নিম্নমুখী প্রবণতাই প্রাধান্য পায়। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে অধিকাংশের শেয়ারদর কমেছে। সপ্তাহে ২০৬টি প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে। দর বেড়েছে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের এবং ১২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষে যা ছিল ৭ লাখ ৬ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে বাজারমূল্য কমেছে ১৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা, যা প্রায় ২.৪৮ শতাংশ হ্রাস।
সূচকের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক সপ্তাহে ১৪৮.৬৬ পয়েন্ট কমেছে, যা ২.৭৭ শতাংশ পতন। ডিএসই-৩০ সূচক আরও বেশি চাপের মুখে পড়ে ৮৫.৮৯ পয়েন্ট বা ৪.১৬ শতাংশ কমেছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসই শরিয়াহও ১৯.৪৮ পয়েন্ট কমে ১.৮৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবে লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৬৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশি। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৫৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ গড়ে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বা ২৫.৭৮ শতাংশ।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড। কোম্পানিটির শেয়ারে প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন, যার দৈনিক গড় লেনদেন ২০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, গড় লেনদেন ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় আরও ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ব্র্যাক ব্যাংক, টেকনো ড্রাগস, সিটি ব্যাংক, ফাইন ফুডস, বিডি থাই ফুডস এবং হাক্কানী পাল্প।

