গত সপ্তাহে (২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল) দেশের পুঁজিবাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২ শতাংশ পতন করেছে। বিশেষ করে বড় কোম্পানির শেয়ারে দরপতন বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেন বাড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ, যা বিনিয়োগকারীদের ক্রিয়াকলাপের মাত্রা বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইএক্স সূচক সপ্তাহের ব্যবধানে ৯৬.৫১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২০ পয়েন্টে নেমেছে, যেখানে আগের সপ্তাহে এটি ছিল ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ ৩৯.৩৫ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএসও ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে এসেছে।
ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৭২টির দর বেড়েছে, ২০৬টির কমেছে, ১২টির অপরিবর্তিত এবং ২২টির লেনদেন হয়নি। সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, আল-আরফাহ ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের শেয়ার।
দৈনিক গড় লেনদেনও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে গড়ে ৬৬৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের সপ্তাহে এটি ছিল ৫৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন ২১.৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নেতিবাচক ছিল। সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসেই সূচক কমেছে। যদিও মাঝের দিনগুলোতে সাময়িক শেয়ার ক্রয় কিছুটা সূচক উত্থান করেছে, তবে তা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারেনি।
খাতভিত্তিক লেনদেনে ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ার আধিপত্য বজায় রেখেছে। মোট লেনদেনের ১৬.৬ শতাংশ অংশ ছিল এই খাতে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল প্রয়োজনীয় খাত ১২.৪ শতাংশ, তৃতীয় স্থানে বস্ত্র খাত ৯.৮ শতাংশ, ব্যাংক খাত ৯.৮ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাত ৭.৩ শতাংশ লেনদেনে ছিল।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে পাঁচটি খাতের শেয়ার বাদে বাকিগুলিতে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের নেতিবাচক রিটার্ন সর্বাধিক ৩.৯ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত ৩.৬ শতাংশ, সিমেন্ট খাত ৩.৩ শতাংশ কমেছে। ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ, মিউচুয়াল ফান্ড, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বস্ত্র খাতের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য হারে নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাত ৩.২ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাত ১.২ শতাংশ এবং সেবা ও আবাসন খাত ১.১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন অর্জন করেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১.৪৩ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৭০১ পয়েন্টে নেমেছে। সিএসসিএক্স সূচক সপ্তাহে ১.৩১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮ হাজার ৯৮৩ পয়েন্টে এসেছে। সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৮৮ কোটি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল ৩৯ কোটি টাকা। মোট ৩০৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২৭টির দর বেড়েছে, ১৫২টির কমেছে এবং ২৮টির অপরিবর্তিত ছিল।

