পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাতটি ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে।
দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-কে সাতটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
যেসব ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের আওতায় এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— আহমেদ ইকবাল হাসান সিকিউরিটিজ, শেলটেক ব্রোকারেজ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজ, মার্চেন্ট সিকিউরিটিজ, জেকেসি সিকিউরিটিজ, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং গ্লোব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফিনটেক কোম্পানি।
জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ ডিএসই থেকে বিএসইসিতে পাঠানো একাধিক প্রতিবেদনে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে স্টক-ব্রোকার ও ডিলারদের নিবন্ধন নবায়ন, মার্জিন ঋণ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণে ঘাটতির বিষয় উল্লেখ করা হয়।
বিএসইসি জানিয়েছে, তদন্তের সময় শুধু উল্লিখিত অভিযোগ নয়, পরিদর্শনের সময় অন্য কোনো অনিয়ম ধরা পড়লেও তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে মার্জিন রুলস, ১৯৯৯ এবং ২০২২ সালের ২০ মে জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই উদ্যোগকে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

