সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের বিক্রয়চাপে প্রধান সূচক উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, একই সঙ্গে লেনদেনেও এসেছে বড় পতন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫,১১২ পয়েন্টে, যা আগের দিন ছিল ৫,২২০ পয়েন্ট। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ কমে ৩৫ পয়েন্টে নেমে ১,৯৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ১৮ পয়েন্ট হারিয়ে ১,০৪১ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ার দরপতন সূচক কমার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে ব্যাংক ও বহুজাতিক খাতের কিছু শেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমেছে।
লেনদেনের পরিমাণেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫১২ কোটি টাকা, যা আগের দিনের ৬২৬ কোটি টাকা থেকে প্রায় ১৮ শতাংশ কম। লেনদেন হওয়া ৩৯০টি কোম্পানি ও সিকিউরিটিজের মধ্যে মাত্র ২৫টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩৫৪টির দাম কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
খাতভিত্তিক লেনদেনে ওষুধ ও রসায়ন খাত সর্বোচ্চ অংশ দখল করে। এরপর প্রকৌশল, বস্ত্র, সাধারণ বীমা ও ব্যাংক খাতের অবস্থান ছিল যথাক্রমে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে।
সব খাতেই এদিন নেতিবাচক রিটার্ন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে। এছাড়া সিরামিক, পাট ও কাগজ, জীবন বীমা এবং বস্ত্র খাতেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক কমেছে, যদিও লেনদেন বেড়েছে। সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ১২৮ পয়েন্ট কমে ৮,৮৫৪ পয়েন্টে নেমেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪,৪৭৩ পয়েন্টে।
সিএসইতে এদিন ১৯০টি কোম্পানির মধ্যে ৩৩টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ১৪৮টির কমেছে। লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি এবং বিক্রির চাপ বাড়ায় বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

