আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। বুধবার (৮ এপ্রিল) লেনদেনের শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যা দিনশেষে বড় উত্থানে পরিণত হয়। লেনদেনের পরিমাণও প্রায় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়।
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন দেখা যায় বাজারে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়ায় সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। দিনের শুরুতেই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।
লেনদেন শেষে দেখা যায়, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে। মোট ৩৬৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে ১৫টির দর কমেছে এবং ১১টির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৩১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একইভাবে শীর্ষ ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৫৪ পয়েন্ট বাড়িয়ে ২,০২৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। শরিয়াহভিত্তিক সূচকও ৩০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৭৫ পয়েন্টে।
শুধু সূচক নয়, লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য গতি ফিরে এসেছে। দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩৯৫ কোটি টাকা বেশি।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক সূচক ৩২৮ পয়েন্ট বেড়েছে। অংশ নেওয়া ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৭টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। কমেছে ১৯টির এবং ৬টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক বার্তা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির কারণেই এদিন শেয়ারবাজারে এমন শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে।

