টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সপ্তাহের শেষ দিনে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমতে থাকে, যা দিনশেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এতে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমে গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের দিন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতির খবরে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তবে সেই ধারাবাহিকতা শেষ দিনে ধরে রাখা যায়নি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭০টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩০৬টির দর কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে বাজারজুড়ে নেতিবাচক প্রবণতাই প্রাধান্য পেয়েছে।
সূচকের দিক থেকেও বড় পতন হয়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,২৫৮ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কমেছে ১৩ পয়েন্ট, যা নেমে এসেছে ১,০৬৩ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএস৩০ সূচক ২৪ পয়েন্ট কমে ২,০০২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনের পরিমাণেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। দিনশেষে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ২১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা কম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৪ পয়েন্ট কমে ১৪,৭৭৪ পয়েন্টে নেমেছে। এখানে লেনদেন হওয়া ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৩টির দাম বেড়েছে, ১০৭টির কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকার তুলনায় অনেক কম।সপ্তাহের শেষ দিনে এ ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

