মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব দেশের পুঁজিবাজারে এখনো স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। গত সপ্তাহে লেনদেনে উল্লম্ফন দেখা গেলেও বাজার মূলধনে উল্লেখযোগ্য পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গড় দৈনিক লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে একই সময়ে বাজার মূলধন কমে যায় তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। বড় মূলধনি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের শেয়ার দর পতন এই ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সূচকের গতিপ্রকৃতি ছিল প্রায় স্থবির। প্রধান সূচক সামান্য কমলেও শরিয়াহ সূচকে সীমিত বৃদ্ধি দেখা যায়। তবে তা সামগ্রিক বাজারে কোনো বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। অধিকাংশ কোম্পানির দর পরিবর্তন সীমিত থাকলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারের দর পতন বাজারে চাপ সৃষ্টি করে।
খাতভিত্তিক লেনদেনে প্রকৌশল, ওষুধ ও বীমা খাত তুলনামূলকভাবে সক্রিয় থাকলেও ব্যাংক ও জ্বালানি খাতে নেতিবাচক প্রবণতা বাজারকে নিচের দিকে টেনে নেয়। বিশেষ করে বড় মূলধনি শেয়ারগুলোর বিক্রয় চাপ সূচকে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও তা স্থায়ী হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং করপোরেট আয়ের অনিশ্চিত প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে যেতে বাধ্য করেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও লেনদেন কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে, যদিও সূচকে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। এতে বোঝা যায়, সার্বিকভাবে বাজার এখনও দিকনির্দেশনা খুঁজছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন বৈশ্বিক অস্থিরতার অবসান, বড় কোম্পানির শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আস্থা পুনরুদ্ধার। অন্যথায় লেনদেন বাড়লেও বাজার মূলধনের ক্ষয় প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

