পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন দেখা দেয়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা প্রকাশের পর এই দরপতনের ধারা থেমেছে।
গতকাল (সোমবার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়ে যায়। সব মূল্যসূচকও উর্ধ্বমুখী ছিল। যদিও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। এর ফলে টানা পাঁচ কার্যদিবস দরপতনের পর বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা শুরু হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির পর শেয়ারবাজারে উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বাজার-সহায়ক নীতি ঘোষণার আশ্বাস এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফেরানো মূল কারণ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শিগগিরই করনীতি ও ব্যাংকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত ছাড়ও ঘোষণা করা হবে। বিনিয়োগকারীরা এ ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
দিনের শুরু থেকেই বাজারে ক্রয়চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ডিএসইতে সূচক দিন শেষে প্রায় ৫০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান নেয়। লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি ছিল।
আইসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণাটি বাজারে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। সরকার এখন পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমা শিথিলের ফলে বাজারে নতুন তারল্য আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।” সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও মনে করছেন, সরকারের উদ্যোগ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বাজারে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়াচ্ছে। সরকার বিনিয়োগকারীর স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সবাইকে বিভ্রান্তিকর গুজব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট নাম লিখিয়েছে। সিএসইতে টানা ছয় কার্যদিবস দরপতনের ধারা দেখা দিয়েছে। সোমবার লেনদেনের শুরুতে সিএসইতে অস্থিরতা দেখা দিলেও দুপুরের দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির পর ডিএসইতে দাম বাড়তে থাকে। দিনের শেষে দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান এবং সব মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
ডিএসইতে লেনদেন শেষে দাম বাড়ার তালিকায় ২৩৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট, দাম কমেছে ১২০টির এবং ৫০টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ১৩৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ৬২টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের ৫৪টির দাম বেড়েছে, ১৮টির কমেছে। লভ্যাংশ না পাওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ৩৯টির দাম বেড়েছে, ৪০টির কমেছে। ৩৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪টির দাম বেড়েছে, ২০টির কমেছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫,২২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ২,০০৯ পয়েন্টে, ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১,১১৭ পয়েন্টে রয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণ ৫৩০ কোটি টাকা, আগের দিনের ৫৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার তুলনায় কমেছে। লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং (২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা), প্রগতি ইন্স্যুরেন্স (১৮ কোটি ৮৩ লাখ) ও সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল (১৬ কোটি ৫২ লাখ)। ডিএসইতে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, মিডল্যান্ড ব্যাংক, রূপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালি পেপার ও রবি।
সিএসইতে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৪ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৪টির দাম বেড়েছে, ৭৬টির কমেছে, ২২টির অপরিবর্তিত। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকার, আগের দিন ১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

