দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে কনটেইনার ব্যবস্থাপনা সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই ধারাবাহিকতায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (এসএ পোর্ট) গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে। অর্থাৎ, প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে একজন বিনিয়োগকারী পাবেন ১ টাকা ৮০ পয়সা।
গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে এসএ পোর্টের মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ৬৩ শতাংশ বা ২৬ কোটি টাকার বেশি। কোম্পানিটি ২০১০ সালের পর এবার সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তখন ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল তারা। এবার সম্পূর্ণ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি ক্রমবর্ধমান হওয়ায় কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ব্যবসাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশে এই ব্যবসা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বেসরকারি খাতে বর্তমানে ১৯টি কনটেইনার ডিপো আছে। এর মধ্যে ৬টি ডিপো বাজারের সিংহভাগ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।
কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ১৯টি ডিপো ৮ লাখ ৩০ হাজার একক কনটেইনার ব্যবস্থাপনা করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার। ফলে খাতে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। এসএ পোর্ট এই খাতে তৃতীয় অবস্থানে আছে। সামিট গ্রুপ ও অ্যালায়েন্স হোল্ডিংসের যৌথ মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ৯২ হাজার ৬৭০ একক কনটেইনার ব্যবস্থাপনা করেছে, যা বাজারের ১১ শতাংশ হিস্যা।
গত ১ সেপ্টেম্বর কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন রপ্তানি খাতের সাত ধরনের সেবার মাশুল বাড়িয়েছে। রপ্তানি পণ্য বোঝাইয়ের মাশুল বেড়েছে ৬০ শতাংশ, পাশাপাশি খালি কনটেইনার ভাড়াও বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের হিসেবে, এসব পরিবর্তনের ফলে ডিপোগুলোর বার্ষিক আয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাশুল বৃদ্ধি ও আমদানি-রপ্তানির সম্প্রসারণ—এই দুই কারণে কনটেইনারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এতে ডিপোগুলোর আয় ও মুনাফা দুটোই বাড়ছে।
এসএ পোর্ট ২০০৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে এটি ‘এ’ শ্রেণির কোম্পানি। গত অক্টোবর শেষে কোম্পানিটির ৫৯ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে, ২৬ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের, সাড়ে ১১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এবং সাড়ে ৩ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা।

