রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড এ বছরও লোকসানের কারণে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেবে না। কোম্পানির পর্ষদ এ সিদ্ধান্ত গতকাল সোমবার ঘোষণা করেছে। পরপর দুই বছর লভ্যাংশ না দেওয়ায় স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিটিকে ‘জেড’ বা ‘জাঙ্ক’ ক্যাটেগরিতে রাখেছে।
তবু শেয়ারদর উল্টো দিকে উঠে ১৩ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ ৩১ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এমন অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির দিনে তালিকাভুক্ত দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিকে, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার পরও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি তেল বিতরণকারী কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ার দর বেড়েছে মাত্র দেড় শতাংশের বেশি। রোববার এ কোম্পানির শেয়ার ২১০ টাকা ৮০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল, গতকাল সর্বোচ্চ দর দাঁড়িয়েছে ২১৭ টাকা। শেষ লেনদেন হয়েছে ২১৩ টাকা ৮০ পয়সায়।
টানা সপ্তম দিনে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৯ পয়েন্ট কমে ৪৮৬০ পয়েন্টে নেমেছে। এ অবস্থান ৩০ জুনের পর সর্বনিম্ন। গত সাত কর্মদিবসে সূচক মোট ২৬১ পয়েন্ট বা ৫ শতাংশের বেশি পতন দেখিয়েছে। দিনের শেষ লেনদেনে দেখা গেছে, ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির মধ্যে ৬৬টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ২৪৮টির দর কমেছে, অপরিবর্তিত ৩৪টির দর। লেনদেন স্থগিত করা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকসহ ১২টি কোম্পানির শেয়ার এদিন কেনাবেচা হয়নি। এছাড়া ৩৭টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৬টির দর কমেছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাত্র ৩ কোম্পানির শেয়ার ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে অন্তত ৫৩ কোম্পানির শেয়ার।
খাতওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, সিরামিক ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ার সাধারণত ২ থেকে আড়াই শতাংশ দর হারিয়েছে। এ ধরনের দর পতনের কারণে লেনদেন ফের চারশ কোটি টাকার নিচে নেমেছে। গতকাল ডিএসইতে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ হয়েছে ৩৫৬ কোটি টাকা, যা রোববারের তুলনায় প্রায় ৪৬ কোটি টাকা কম।

