দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে গতকাল সূচকে পতনের দেখা মিলেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। এক্সচেঞ্জে দৈনিক লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার নিচে নেমেছে। এদিন ৭৭.৫৮ শতাংশ সিকিউরিটিজের দরপতন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লেনদেনের শুরুতে সূচকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। তবে বেলা ১১টার পর শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায় সূচক ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। দিনশেষে ডিএসইএক্স ৪৭.৪৩ পয়েন্ট কমে ৪,৮২৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সূচক ছিল ৪,৮৭৩ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ ১৮.১৪ পয়েন্ট কমে ১,৮৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১১.২২ পয়েন্ট কমে ১,০১৬ পয়েন্টে নেমেছে।
সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, সামিট পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ।
ডিএসইতে ২৯০ কোটি ১৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এই পরিমাণ ছিল ৩৩৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এদিন ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ৩০১টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির।
খাতভিত্তিক লেনদেন চিত্রে দেখা গেছে, ওষুধ ও রসায়ন এবং প্রকৌশল খাত যৌথভাবে ১৩.১ শতাংশ লেনদেনে শীর্ষে অবস্থান করেছে। দ্বিতীয় স্থানে ১০.৭ শতাংশ নিয়ে বস্ত্র খাত। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত ৯.৪ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল। ব্যাংক খাতের দখলে ছিল ৭.৭ শতাংশ, আর বিবিধ খাতের লেনদেনের অংশ ছিল ৬.৬ শতাংশ।
সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। সবচেয়ে বেশি ৪.২ শতাংশ পতন হয়েছে পাট খাতে। জীবন বীমা খাতে ৩.৭, মিউচুয়াল ফান্ডে ৩.৪, তথ্যপ্রযুক্তিতে ২.৯ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ২.৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।
চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পতনের ধারা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স ৬৭.৮৩ পয়েন্ট কমে ৮,৪৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই ১২০.৮৬ পয়েন্ট কমে ১৩,৬১৮ পয়েন্টে নেমেছে। লেনদেন হওয়া ১৬৫ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩২টির, কমেছে ১২০টির, অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির। এদিন সিএসইতে ৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

