শেয়ারবাজারে টানা দরপতনে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রতিদিনই গলাধঃকরণ হচ্ছে তাদের পুঁজি। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল গত ছয় মাসের সবচেয়ে বড় পতনের দিন। গত দুই সপ্তাহে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ৯ দিনই সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। এ সময়ে সূচক হারিয়েছে ৪১৯ পয়েন্ট বা ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৪৬ কোম্পানির মধ্যে ৩২৩টির দর কমেছে। দর বেড়েছে মাত্র ১৩টির। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এক দিনে ১২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭০২ পয়েন্টে। সূচকের পতন ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা চলতি বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ৫ মে সূচক কমেছিল ১৪৯ পয়েন্ট। দরপতনের আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি বাড়ায় লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৮৩ কোটি টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় ৯৩ কোটি টাকা বেশি।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকালের পতন ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। দিনের বিভিন্ন সময়ে ৯৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে নেমে যায়। লেনদেন শেষে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৮টিতে। তবে ১৭৭ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমেছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। দিনের শেষে উদ্যোক্তা-পরিচালক এবং সাধারণ বিনিয়োগকারী—সবাই মিলিয়ে একদিনে শেয়ারের বাজারমূল্য কমেছে তিন হাজার কোটি টাকা। গত দুই সপ্তাহে বাজারমূল্য কমেছে ১৬ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। গতকাল বীমা খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে ৫৫টির দর কমেছে। সব খাতেই ছিল দরপতনের চাপ।
শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত তিন দিনের নাশকতার ঘটনাগুলো বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালার কারণে কিছু ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ‘ফোর্স সেল’ করছে। এতে দরপতন আরও গতি পেয়েছে।
ডিএসই পরিচালক ও সিনিয়র ব্রোকার মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নাশকতার সঙ্গে মার্জিন ঋণ ও মিউচুয়াল ফান্ডসংক্রান্ত বিধিমালার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে চাপ পড়া অস্বাভাবিক নয়। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রসংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অনিশ্চয়তা বাড়ায় কৌশলী বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। শেয়ারবাজার সংস্কারের অংশ হিসেবে হওয়া নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালাও স্বল্পমেয়াদে চাপ তৈরি করছে। যদিও বিধিমালার কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য শিথিল রাখা হয়েছে, অনেক বিনিয়োগকারী তা জানেন না।
লোকসানি মার্জিন অ্যাকাউন্টে ‘ফোর্স সেল’ বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে—এমন আলোচনা চলার মধ্যে মুলধনি লোকসান হয়ে থাকা মার্জিন অ্যাকাউন্ট সমন্বয়ে সময় বাড়ানোর বিষয়ে ২৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের আবেদন বিবেচনায় নিয়েছে বিএসইসি। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় সংস্থাটি।

