পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন থেকে সব নথি একবারেই ডিজিটাল মাধ্যমে অনলাইনে জমা দিতে পারবে। আগে একই নথি হার্ড কপি ও ই-মেইলে আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় এক জায়গা থেকেই সব নথি আপলোড করা যাবে।
এর অংশ হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেমে (এসএসএস) যুক্ত করা হয়েছে দুটি নতুন সুবিধা—রেগুলেটরি সাবমিশন মডিউল ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) অনবোর্ডিং। বুধবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে নতুন প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়।
ডিএসই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রেগুলেটরি সাবমিশন মডিউল ব্যবহার করে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন আর্থিক প্রতিবেদন, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত, লভ্যাংশ ঘোষণা ও অন্যান্য তথ্য দ্রুত অনলাইনে পাঠাতে পারবে। পাশাপাশি সিএসই অনবোর্ডিং সুবিধা চালু হওয়ায় ডিএসইতে তথ্য আপলোড করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিএসইতেও চলে যাবে। আবার সিএসইতে জমা দিলে তা ডিএসইতে পৌঁছে যাবে। এতে দুই এক্সচেঞ্জে আলাদা নথি পাঠানোর প্রয়োজন থাকবে না, সময় ও শ্রম—দুটোই বাঁচবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন। তিনি বলেন, নতুন ডিজিটাল সাবমিশন ব্যবস্থা বাজারসংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারে স্বচ্ছতা এবং গতি আনবে। এতে নিয়ন্ত্রক, নিরীক্ষক ও অন্যান্য অংশীজনেরা আরও দক্ষভাবে তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের মতে, এত দিন নথি জমা ও রিপোর্টিংয়ের বড় অংশ ম্যানুয়াল ও হার্ড কপিনির্ভর ছিল, যা বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট কাজকে ধীর ও জটিল করেছে। নতুন সিস্টেম সেই সীমাবদ্ধতা দূর করবে।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আসাদুর রহমান বলেন, এখন থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা নিজ নিজ অফিস থেকেই নথি পাঠাতে পারবেন। তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ডিএসইর ওয়েবসাইটের আধুনিক ল্যান্ডিং পেজ উন্মোচনের কাজও প্রায় শেষ।
বিএসইসির প্রধান হিসাবরক্ষক খায়রুল আনাম খান বলেন, ইস্যুয়ারদের দাপ্তরিক জটিলতা কমাতে এবং দৌড়াদৌড়ি বন্ধ করতেই ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেমে আরও ব্যবসায়িক সুবিধা যোগ করা হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইনস্যুরেন্স ও ক্যাপিটাল মার্কেট উইংসের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদ কুতুব, ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ পুঁজিবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

