কয়েক মাস ধরে দেশের শেয়ারবাজার মন্দার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা বড় লোকসান ভুগছেন। বছরের অধিকাংশ সময় শেয়ারবাজারে অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে অনেক কোম্পানির শেয়ার দাম। সার্বিকভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্য আয় অনুপাত (পিই) ৯-এর নিচে নেমে গেছে।
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি মূলত পিই দেখে নির্ণয় করা হয়। সাধারণত ১০-১৫ পিইকে ঝুঁকিমুক্ত ধরা হয়। কোনো কোম্পানির পিই ১০-এর নিচে থাকলে তার শেয়ার দাম অবমূল্যায়িত বা বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ধরা হয়। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান বাজার বিনিয়োগের জন্য অনেকটাই উপযুক্ত বলে ধরা হচ্ছে।
আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহামেদ বলেন, ‘পিই রেশিও শেয়ার মূল্যের তুলনায় প্রতি শেয়ার আয়ের (ইপিএস) তুলনা বোঝায়। তবে শুধু পিই দেখে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। খাতভিত্তিক পার্থক্য, কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনা করতে হবে।’ তিনি আরও জানান, ‘কিছু খাতের পিই তুলনামূলকভাবে বেশি, যা অতিমূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়। আবার কিছু খাতের পিই কম হলেও মৌলিক ভিত্তি দুর্বল থাকায় ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।’
ডিএসই পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য পিই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত পিই ১০-এর নিচে হলে শেয়ার বিনিয়োগের উপযুক্ত। তবে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, আর্থিক অবস্থা ও অতীত ইতিহাসও ভালোভাবে দেখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে শেয়ারবাজারে মন্দা বিরাজ করছে। অনেক কোম্পানির শেয়ার এখন অবমূল্যায়িত। এই বাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ার বাছাই করে বিনিয়োগ করলে ভালো রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তবে সার্বিক অবমূল্যায়নের মধ্যে কয়েকটি খাতের কোম্পানি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে চামড়া ও সিরামিক খাতের পিই যথাক্রমে ৬০-এর ওপরে।
শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মন্দার মধ্যে থাকার কারণে বিনিয়োগকারীরা ৬০ শতাংশের বেশি লোকসানে রয়েছেন। লোকসানের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। এতে বাজারে লেনদেন কমে গেছে এবং অর্থাৎ এক ধরণের স্থবির অবস্থা তৈরি হয়েছে।
তাদের মতে, বর্তমান বাজার বিনিয়োগের উপযুক্ত। সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে আগে তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। সঠিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে লাভ পাওয়া সম্ভব।
বর্তমানে ডিএসইর সার্বিক পিই ৮.৭০ পয়েন্টে রয়েছে। এ ছাড়া তিনটি খাতের পিই আরও কম। দুটি খাতের পিই ১০-এর নিচে। সবচেয়ে কম পিই রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে, ৩.২৮ পয়েন্ট। এরপর জ্বালানি খাতের ৪.৩৮, ব্যাংক খাতের ৬.০৩, ওষুধ খাতের ৯.১০ এবং আর্থিক খাতের ৯.৬৪ পয়েন্ট। সর্বোচ্চ পিই সিরামিক খাতের ৮১.৯৭। চামড়া খাতের পিই ৬০.৪৪। পাট খাত ২৬.৬৩, কাগজ ও মুদ্রণ খাত ২১.৯৯। বাকি খাতের পিই ২০-এর নিচে।
প্রকৌশল খাতের পিই ১০.৪৯, বস্ত্র খাত ১০.৭৩, সেবা খাত ১১.২৬, সিমেন্ট খাত ১২.৫৩, বিমা খাত ১২.৭৪, টেলিকম খাত ১৩.২৪, ভ্রমণ খাত ১৩.৩৬, আইটি খাত ১৪.৭৪, বিবিধ খাত ১৫.২৪ এবং খাদ্য খাত ১৫.৯০।
ডিএসইর এক সদস্য বলেন, ‘সার্বিক পিই ৯-এর নিচে নেমে গেছে। এত কম পিই সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। সাধারণত ৯-এর নিচে বাজার অবমূল্যায়িত ধরা হয় এবং বিনিয়োগ উপযুক্ত মনে করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে সার্বিক বাজারের পিই ৯-এর নিচে, সেখানে চামড়া ও সিরামিক খাতের পিই ৬০-এর ওপরে। এ ধরনের খাত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সব কোম্পানির শেয়ার ঝুঁকিপূর্ণ নয়। পিই বেশি এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’

