দেশের শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এখনও তেমন সক্রিয় নয়। অক্টোবরের মতো নভেম্বরেও মোট শেয়ার কেনাবেচায় তাদের অংশগ্রহণ খুব কম ছিল। মূলত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই বাজার চালাচ্ছেন।
গত দুই মাসে শেয়ারবাজারের মূল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ধারণের হার বিশ্লেষণে এ তথ্য মিলেছে। অক্টোবরে বাজার মূলধনে প্রাতিষ্ঠানিক অংশ ছিল ১৬.৩৬ শতাংশ। নভেম্বর শেষে এটি সামান্য বেড়ে ১৬.৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে এর মধ্যে কিছু কোম্পানিতে পরিচালক পদ ছাড়ায় উদ্যোক্তা-পরিচালকের শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির মোট বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশ ৫২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। অক্টোবরে বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, যার প্রাতিষ্ঠানিক অংশ ছিল ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা।
তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির মধ্যে ৩৩৫টির শেয়ার ধারণের হার পরিবর্তন-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৫০ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বেড়েছে, ১৫৮ কোম্পানিতে কমেছে। শেয়ার বেড়েছে এমন কোম্পানির সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৪০০ কোটি টাকা। কমেছে এমন কোম্পানির বাজারমূল্য সর্বোচ্চ সোয়া ৩০০ কোটি টাকা। শুধু নভেম্বরেই ডিএসইতে ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে প্রাণ নেই। নভেম্বরে দিনে গড়ে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার কম শেয়ার হাতবদল হয়েছে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক নয়, সব ধরনের বিনিয়োগকারী এখন নিষ্ক্রিয়।”
একাধিক শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, দেশের শেয়ারবাজারে প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী খুব কম। অন্যান্য দেশে মিউচুয়াল ফান্ড, পেনশন, গ্রাচ্যুইটি ফান্ড, বীমা কোম্পানি, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বড় বিনিয়োগ করে। আমাদের বাজারে এ ধরনের বিনিয়োগকারী সীমিত। কেউ কেউ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর নামে কোম্পানির শেয়ার কিনে সেটি প্রাতিষ্ঠানিক হিসেবে দেখানো হয়। ফলে প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বোঝা কঠিন।
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আরও বলেন, “দীর্ঘ মন্দার মধ্যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর মতো প্রাতিষ্ঠানিকরাও অধিকাংশ শেয়ারে লোকসানে আছেন। নতুন বিনিয়োগের তহবিল কমে গেছে। জুলাই-আগস্টে কিছুটা সক্রিয়তা থাকলেও পরের দুই মাসে দর পতনের কারণে লোকসান হয়েছে। এছাড়া মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধনের কারণে বাজারে নতুন তারল্য আসছে না। এ সব মিলিয়ে বাজার নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।”
সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি ভিআইপিভির সিইও শহিদুল ইসলাম বলেন, “নানান চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা একেবারেই সক্রিয় নয়, এটা বলা যাবে না। তবে ব্যাংকের উচ্চ সুদ হার তাদের জন্য প্রধান অন্তরায়।”
তিনি আরও জানান, “সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট নেই। মূল্যস্ফীতি কমছে। অর্থনীতির অনেক সূচক ইতিবাচক। সমস্যা হচ্ছে ব্যাংকের সুদহার। সরকারি বিল-বন্ডের মুনাফা বেড়েছে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এখনও নিরাপদ বিনিয়োগে আগ্রহী।”

