দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ। তবে সূচক বাড়লেও এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৭ শতাংশের বেশি।
ডিএসইর সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। তবু বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম থাকায় লেনদেনে গতি কিছুটা কমেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৮৪ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচক ছিল ৪ হাজার ৮৩১ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ এক সপ্তাহে ২২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৩ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচক ছিল ১ হাজার ৮৬০ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি ছিল ১ হাজার ১ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৪১টির। দর কমেছে ১০১টির। দর অপরিবর্তিত ছিল ৪৪টির। আর ২৭টির শেয়ারে কোনো লেনদেন হয়নি। সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইস্টার্ন ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, সিটি ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ার।
গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে ৩৫৮ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৩৮৭ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে পরিস্থিতি কিছুটা স্পষ্ট হবে—এমন প্রত্যাশা বাজারের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। তবে নতুন কোনো ইতিবাচক প্রণোদনা না থাকায় ঝুঁকিভীত বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণ কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে বাজারে মাঝেমধ্যে অস্থিরতাও দেখা গেছে।
খাতভিত্তিক লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের আধিপত্য ছিল। মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ দখলে নিয়ে খাতটি শীর্ষে অবস্থান করেছে। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ লেনদেন নিয়ে ছিল দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। প্রকৌশল খাত ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ লেনদেন নিয়ে চতুর্থ এবং ব্যাংক খাত ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন নিয়ে পঞ্চম স্থানে ছিল।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে চারটি খাত বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ রিটার্ন এসেছে সেবা ও আবাসন খাতে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রিটার্ন ছিল ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। কাগজ ও মুদ্রণ খাতে রিটার্ন দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশে। বিপরীতে, গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে একটি খাতে। এছাড়া সিরামিক খাতে দশমিক ৮১ এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দশমিক ৫৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।
দেশের অপর পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও গত সপ্তাহে সূচক বেড়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৪৩ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে সূচক ছিল ১৩ হাজার ৬২৪ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচক দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৪১০ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে এ সূচক ছিল ৮ হাজার ৪০৪ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৩টির। দর কমেছে ১২৮টির। আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির।

