সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই কমছে। এ ধারা চলতি বছরেও অব্যাহত রয়েছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদেশীরা মোট ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করেছেন। দেশের মোট লেনদেনের তুলনায় এটি অতি নগণ্য।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিদেশীদের লেনদেন ছিল দেড় কোটি ডলার। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ২ কোটি ২০ লাখ, মার্চে ১ কোটি ৪০ লাখ, এপ্রিলে ৩ কোটি ৫০ লাখ, মে মাসে ৪ কোটি ১০ লাখ, জুনে ২ কোটি ৩০ লাখ, জুলাইয়ে ৪ কোটি, আগস্টে ৩ কোটি ১০ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৩ কোটি ৬০ লাখ এবং অক্টোবরে ৩ কোটি ডলার। নভেম্বরের প্রথমার্ধে ১ কোটি ডলার লেনদেন করেছেন তারা। এভাবে চলতি বছরের ১১ মাসে বিদেশীরা মোট ৩১–৩২ কোটি ডলার লেনদেন করেছেন। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩৪ পয়সা হিসেবে এর বাংলাদেশি টাকায় পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮৬২ কোটি।
সার্বিকভাবে, চলতি বছরের ১১ মাসে দেশের পুঁজিবাজারও হতাশাজনক। এ সময়ে ডিএসই সূচক ডিএসইএক্স ২৩৭ পয়েন্ট কমেছে। সর্বাধিক দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে আগস্টে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর সর্বনিম্ন ছিল মার্চে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত নয় বছরে বিদেশীদের অংশগ্রহণ ৩.৮৫ শতাংশ থেকে নেমে ১.২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গত চার বছরে বিদেশীদের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৬ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেন ছিল ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩.৬৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে অংশগ্রহণের হার ২.৬৪ শতাংশ (১১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা), ২০১৮ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে ৩.৪৮ ও ৩.৪৪ শতাংশ।
কভিডের বছর ২০২০ সালে বিদেশীদের লেনদেন ১০ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল, যা মোট লেনদেনের ৩.৮৫ শতাংশ। ২০২১ সালে অংশগ্রহণ কমে ১.১০ শতাংশে নেমে আসে, টাকার পরিমাণ ৭ হাজার ৭৬৪ কোটি। ২০২২ ও ২০২৩ সালে তা আরও কমে যথাক্রমে ৪ হাজার ১৮০ কোটি ও ২ হাজার ১৬৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে পুনরায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকায়, যা মোট লেনদেনের ১.২২ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশী বিনিয়োগ কমার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এমএসসিআই ফ্রন্টিয়ার মার্কেট সূচকের দীর্ঘমেয়াদি শ্লথগতির কারণে বিনিয়োগকারীরা বেশি রিটার্নের আশায় অন্যান্য অঞ্চলের বাজারে বিনিয়োগ করছেন। পাশাপাশি দেশের ব্যাক খাতের দুর্বলতা, তারল্য ঝুঁকি, মুদ্রা বিনিময় হার ঝুঁকি ও পর্যাপ্ত ভালো শেয়ার না থাকার বিষয়গুলোও বিনিয়োগ কমার পেছনে প্রভাব ফেলেছে।

