সরকার মালিকানাধীন বহুজাতিক কোম্পানি ও রাষ্ট্রায়ত্ত লাভজনক মৌলভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ ধরনের ১০টি প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়েছে। আজ বুধবার এসব প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, দেশের পুঁজিবাজারে বড় ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। সরকারি মালিকানাধীন ও বহুজাতিক অনেক কোম্পানি নিয়মিত মুনাফা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাবব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতাও রয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অনেকটাই ফিরবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তত এক দশকের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার কথা বলা হচ্ছে। বিভিন্ন বাজেট বক্তৃতা, নীতিগত ঘোষণা এবং পুঁজিবাজার সংস্কার আলোচনায় বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। তবে নানা কারণে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। গত আগস্টে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।
আজকের বৈঠকে যেসব প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে সেগুলো হলো ইউনিলিভার, নেস্লে, নোভার্টিস, সিনজেন্টা, সাইনোভিয়া বাংলাদেশ, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি। অর্থ বিভাগের আয়োজনে এ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যানরা অংশ নেবেন।
বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প ও বিদ্যুৎ উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রধান উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, পুঁজিবাজারের সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা এবং বাজারকে উন্নত ও শক্তিশালী করতে গত ১১ মে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সরকারের মালিকানা রয়েছে এমন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে সরকারের শেয়ার কমিয়ে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

