টানা দুই কার্যদিবস দরপতনের পর আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী সাড়া দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) উভয় বাজারেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। মূল্যসূচকও উর্ধ্বমুখী ছিল। লেনদেনের পরিমাণও বাড়েছে। মূলত ব্যাংক কোম্পানিগুলোর দাপটের কারণে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার ঘোষণা করে। স্কিম অনুযায়ী সর্বোচ্চ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০.৪৪ শতাংশ থেকে ১০.৫৯ শতাংশ পর্যন্ত। আগের হার ছিল ১১.৮২ শতাংশ থেকে ১১.৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা এক শতাংশের বেশি কমানো হয়েছে।
নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবস (১ ও ৪ জানুয়ারি) শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা দেয়। ডিএসইতে লেনদেনও এক মাসের বেশি সময় পর পাঁচশ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছায়। কিন্তু ৪ জানুয়ারি বিকেলে সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করলে পরের দুই কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে দরপতন হয়।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ার সঙ্গে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্যান্য খাতেও। শেয়ার ও ইউনিটের দাম দ্রুত বেড়ে যায় এবং মূল্যসূচক বড় উত্থান দেখায়। দিনের শেষে এই ধারা অব্যাহত থাকে।
ডিএসইতে দিনশেষে ১৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ১৩১টির দাম কমেছে এবং ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত আছে। ২৮টি ব্যাংকের মধ্যে ২৫টির দাম বেড়েছে, দুটির দাম কমেছে এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়ায় ১০৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ৬৫টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪১টি কোম্পানির মধ্যে ৪১টির দাম বেড়েছে, ২৬টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত। লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে থাকা ৪৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ৪০টির দাম কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৫টির দাম বেড়েছে, ৯টির কমেছে এবং ২০টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ৪,৯৯২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১,৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ১,৯১৩ পয়েন্টে উঠেছে। লেনদেনও বাড়েছে। বাজারে ৪৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৪৫৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বেড়েছে।
সবচেয়ে বড় লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার, যার লেনদেন ২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এরপর সিটি ব্যাংক (১৯ কোটি ৯০ লাখ) ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (১৭ কোটি ৪৪ লাখ) অবস্থান করছে। শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও রয়েছে উত্তরা ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, লাভেলো আইসক্রিম, যমুনা ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও রবি।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১০৮ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৪৬টির কমেছে এবং ২৪টির অপরিবর্তিত। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

