তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফরচুন সুজ লিমিটেড টানা তিন হিসাব বছরে ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ এখনো বিনিয়োগকারীদের কাছে বিতরণ করেনি। সমাপ্ত ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের জন্য ঘোষিত এ লভ্যাংশের অর্থ পাঠানো হয়নি বলে নিরীক্ষক মতামতে উঠে এসেছে।
কোম্পানিটির সর্বশেষ ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লভ্যাংশ বিতরণের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় অর্থ স্থানান্তর করা হয়নি।
নিরীক্ষকের মতে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ফরচুন সুজের অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের অপরিশোধিত লভ্যাংশ ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে এ অঙ্ক ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। আর ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে অপরিশোধিত রয়েছে ৯৮ লাখ টাকা।
সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, বার্ষিক সাধারণ সভায় লভ্যাংশ অনুমোদনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। ফরচুন সুজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ২০২১-২২ হিসাব বছরের ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণের কথা জানালেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোম্পানিটি পরপর তিন বছর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের অর্থ দেয়নি।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে ফরচুন সুজের শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১১ পয়সায়, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৫০ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য হয়েছে ১৪ টাকা ৭০ পয়সা।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৫০ পয়সা, আগের বছরে যা ছিল ১ টাকা ৫ পয়সা। ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ১৩ টাকা ৫৮ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে ফরচুন সুজ। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৫ পয়সা, আগের বছরে যা ছিল ২ টাকা ৩০ পয়সা। ২০২৩ সালের ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৫৬ পয়সা।
এর আগে সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে কোম্পানিটি মোট ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৩০ পয়সা, আগের বছরে যা ছিল ১ টাকা ৫৯ পয়সা। ২০২২ সালের ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৩০ পয়সায়।
ফরচুন সুজের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘বিবিবি প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৪’। ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে এ রেটিং দিয়েছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি।
২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফরচুন সুজের অনুমোদিত মূলধন ২৫০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১৭০ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভ রয়েছে ৮২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৭ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৬৩টি। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৫২ দশমিক ৫৮ শতাংশ শেয়ার।

