গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে প্রধান মূল্য সূচক এবং দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
ডিএসই সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৬৮টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতনের চাপ প্রায় ২.৮৮ গুণ বেশি।
তবু সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি বেড়েছে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বা ০.১৮ শতাংশ।
বাজার মূলধন বেড়ালেও প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থা নেতিবাচক ছিল। সপ্তাহজুড়ে সূচক কমেছে ৩৯.৫৬ পয়েন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচক ৮৭.৯৪ পয়েন্ট বা ১.৭৯ শতাংশ বেড়েছিল।
অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৪.৮৭ পয়েন্ট বা ১.৪৭ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহে এটি ৪.৮০ পয়েন্ট বেড়েছিল। এছাড়া বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও ২.২২ পয়েন্ট বা ০.১২ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহে সূচকটি ৪৫.৫২ পয়েন্ট বেড়েছিল।
লেনদেনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৮০ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৪৭৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ফলে দৈনিক লেনদেন কমেছে ৯৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ১৯.৯০ শতাংশ।
টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফাইন ফুডসের শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ারে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩.৬৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার, প্রতিদিন গড়ে লেনদেন ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
এ ছাড়াও লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সিটি ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, লাভেলো আইসক্রিম, এসিআই, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।

