ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে বিদায়ী সপ্তাহে সূচক পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে পুঁজিবাজারে। ১১ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দুই বাজারেই টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে। তবে এ সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বাজার মূলধন বেড়েছে, বিপরীতে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে কমেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহ শেষে প্রায় ৪০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৫৯ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯০০ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ লেনদেন কমেছে ৪৭২ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
সামগ্রিকভাবে বাজারে নেতিবাচক ধারা থাকলেও সাপ্তাহিক লেনদেনে ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছে চারটি খাত। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অধিকাংশ খাতে লেনদেন কমলেও সিরামিকস, করপোরেট বন্ড, জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে লেনদেন বেড়েছে।
সপ্তাহজুড়ে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে জেনারেল ইন্স্যুরেন্স খাতে। এ খাতে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ২৩৩ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা মোট লেনদেনের ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ খাতে লেনদেন বেড়েছে ২৭ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে। সপ্তাহজুড়ে এ খাতে লেনদেন হয়েছে ১০১ কোটি ৮ লাখ টাকা। যা মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিরামিকস খাতে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা মোট লেনদেনের ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ খাতে লেনদেন বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া করপোরেট বন্ড খাতে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ খাতে লেনদেন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য ২ হাজার ৭১৯ দশমিক ৫১ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে এ খাতে লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ২৬০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯০০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে এই লেনদেন ছিল দুই হাজার ৩৭২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪৭২ কোটি ১১ লাখ টাকা।
এ সময়ে ডিএসইতে মোট ৩ হাজার ৮৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৩টির। দর কমেছে ২৬৮টির। দর অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির। তবে ২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটে কোনো লেনদেন হয়নি।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে বিদায়ী সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯২১ পয়েন্টে। সিএসই-৩০ সূচক শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ কমে নেমেছে ১২ হাজার ৪৭৭ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ সূচক দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬২২ পয়েন্টে। সিএসআই সূচক শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫২ পয়েন্টে। তবে এসইএসএমইএক্স বা এসএমই সূচক শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮০০ পয়েন্টে।

