টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর দেশের শেয়ারবাজারে ফের দরপতন দেখা দিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন দাম কমার তালিকায় ছিল বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। দুই বাজারেই সবগুলো মূল্যসূচক কমেছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমে গেছে।
গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) শেয়ারবাজারে এ দরপতন হয়। লেনদেনের শুরুতে ডিএসইতে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ে। সে সময় মূল্যসূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে প্রথম দুই ঘণ্টা পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে দাম কমার তালিকা বড় হতে থাকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দিন শেষে মূল্যসূচক কমে যায় এবং দরপতনের চিত্র স্পষ্ট হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৯২টির দাম কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ৬১টির দাম। ভালো কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ১১৩টির দাম কমেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টির দাম।
মাঝারি মানের অর্থাৎ ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ৩৬টির কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ১০টির। লভ্যাংশ না দেওয়ায় ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ৪৩টির কমেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে দুটির দাম বেড়েছে। ১৯টির কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০৫ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ২৭ পয়েন্টে। ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ১ হাজার ৯৬৪ পয়েন্টে।
সবকটি সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। এদিন লেনদেন হয়েছে ৬০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৬৬৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৬৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
ডিএসইতে লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ওরিয়ন ইনফিউশন। কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেন হয় ২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ।
লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মা, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট।
দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স পিএলসি। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪ টাকা ১০ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ।
দাম বাড়ার শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রহিমা ফুড, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, এপেক্স ট্যানারি, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং গ্রামীণ ওয়ান: স্কিম টু।
অন্যদিকে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩০ পয়সা বা ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তাল্লু স্পিনিং মিলসের শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা রিলায়েন্স ওয়ান দ্য ফার্স্ট স্কিম অব রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমেছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।
দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, খান ব্রাদার্স, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬ পয়েন্ট কমেছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির দাম বেড়েছে। ৯১টির দাম কমেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। এদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

